আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনে ব্যাংকিং খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ নির্দেশনা
দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র ব্যাংকিং খাতে নারীর অংশগ্রহণ ও মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ যথাযথ গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালনের লক্ষ্যে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংককে জরুরি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট (বিআরপিডি) এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক সার্কুলার জারি করে। দেশের সকল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এই আদেশে দিবসটি উদযাপনে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গৃহীত জাতীয় কর্মসূচির সাথে সংগতি রেখে ব্যাংকিং খাতেও এই দিবসটি উদযাপন করতে হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে যাতে প্রতিটি ব্যাংক নিজস্ব পরিসরে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে সক্ষম হয়। চলতি বছরে সরকারের নির্ধারিত মূল প্রতিপাদ্য আজকের পদক্ষেপ আগামীর ন্যায়বিচার সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার বিষয়টি ব্যাংকগুলোর প্রতিটি কর্মসূচি ও প্রচারণায় স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সার্কুলারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত কর্মক্ষেত্রে নারীর অধিকার সুরক্ষা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে তাদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। প্রতিটি ব্যাংককে তাদের উদযাপন কর্মসূচিতে নির্ধারিত প্রতিপাদ্যটি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যাতে সাধারণ গ্রাহক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। দেশের সামগ্রিক নারী উন্নয়নের জাতীয় লক্ষ্যের সাথে ব্যাংকিং খাতের এই সংহতি একটি বৈষম্যহীন ও আধুনিক অর্থব্যবস্থা গঠনের পথে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একটি জাতির সমৃদ্ধির প্রকৃত পরিমাপক হলো সেই সমাজে নারীর অবস্থান এবং তাদের প্রতি প্রদর্শন করা সম্মান। ব্যাংকিং খাতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশাদার ক্ষেত্রে যখন নারীর অধিকার ও মর্যাদাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উদযাপনের আহ্বান জানানো হয় তখন তা কেবল একটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি হয়ে ওঠে সামাজিক পরিবর্তনের এক শক্তিশালী হাতিয়ার যা অনাগত দিনের প্রতিটি কন্যা ও নারীর জন্য একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক আগামীর নিশ্চয়তা দেয়। শ্রদ্ধার এই পরিবেশ এবং সমানাধিকারের এই চেতনা প্রতিটি কর্মস্থলকে করে তুলুক আরও মানবিক ও শক্তিশালী কারণ নারীর উন্নয়নই হলো উন্নয়নের প্রকৃত সোপান।