গণমাধ্যমের সংকট নিরসনে সাংবাদিকদের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পেশের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
দেশের গণমাধ্যম জগতের বিদ্যমান জটিলতা ও সংবাদকর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খুঁজতে সাংবাদিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। তথ্যমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে গণমাধ্যমের যেকোনো সমস্যার কার্যকর সমাধানের জন্য এর প্রকৃতি বা অভ্যন্তরীণ গঠন সঠিকভাবে অনুধাবন করা জরুরি। তিনি একটি রূপক উদাহরণ টেনে বলেন যে কোনো রোগের সঠিক রোগনির্ণয় বা ডায়াগনোসিস না হলে যেমন তার প্রতিকার সম্ভব নয় তেমনি গণমাধ্যমের সংকটের মূলে পৌঁছাতে না পারলে তার সঠিক সমাধান পাওয়াও দুষ্কর হবে।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদার বিষয়ে আলোকপাত করে মন্ত্রী জানান যে কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ মুনাফা করতে পারছেন না এমন অজুহাতে মেধাবী ও পরিশ্রমী সংবাদকর্মীদের বেতন বা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করবেন এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে যে অভাবনীয় গতিশীলতা তৈরি হয়েছে তার সাথে তাল মিলিয়ে চলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তথ্যপ্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে তথ্যের প্রবাহ এখন আর কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা দ্রুততর ও বৈশ্বিক রূপ ধারণ করেছে। এই নতুন বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে এবং দেশ ও জাতিকে আধুনিক সেবা দিতে হলে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অর্জন করা অপরিহার্য বলে তিনি মনে করেন।
তথ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে তথ্যপ্রযুক্তির এই অবাধ বিস্তারের ফলে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত মেধা বিকাশের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে যা সুষম উন্নয়নে সহায়ক হবে। ডিআরইউর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে তিনি সাংবাদিকদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে একটি সুসংহত ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দেওয়ার অনুরোধ জানান যাতে সরকার দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। পেশাদারিত্ব ও আধুনিকতার সমন্বয়ে গণমাধ্যমকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।
সংবাদপত্রের প্রতিটি অক্ষর আর টেলিভিশনের প্রতিটি ফ্রেমের পেছনে লুকিয়ে থাকে একজন সাংবাদিকের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। যখন তাদের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত হয় তখন তা কেবল একটি পেশার উন্নয়ন নয় বরং সুস্থ সমাজ ও গণতন্ত্রের জয়যাত্রা নিশ্চিত করে। কলম সৈনিকদের এই মেধা আর শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন করার মধ্য দিয়ে আমাদের দেশ ও জাতি এক আলোকিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। পারস্পরিক সহযোগিতা আর সহমর্মিতার ভিত্তিতেই গড়ে উঠবে এক বলিষ্ঠ গণমাধ্যম কাঠামো যা অনাগত দিনের প্রজন্মের কাছে সাহসের অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এভাবেই আমরা সমৃদ্ধি আর ন্যায়বিচারের পথে নিজেদের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে পারব।