মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি ও ইরানের ২৩তম ধাপের ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান
আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা এক নতুন ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে যখন ইরান থেকে ইসরাইলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে আবারও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) গভীর রাতে এই হামলা শুরু হয় যার পরপরই ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে আকাশপথে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করতে তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সংঘাতের এই নতুন প্রবাহে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও বারুদের গন্ধ ও যুদ্ধের সাইরেন তীব্র হয়ে উঠেছে যা বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই অভিযানের দায়ভার স্বীকার করে জানিয়েছে যে এটি ইসরাইলের বিরুদ্ধে তাদের পূর্বঘোষিত হামলার ২৩তম ধাপ। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ আইআরজিসির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতার ধারাবাহিকতায় শুরু হওয়া এই দফার সামরিক পদক্ষেপটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত বলে দাবি করছে তেহরান। এই হামলার ফলে সমগ্র অঞ্চলে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে তা নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
অন্যদিকে চলমান এই সংকটপূর্ণ মুহূর্তে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শান্তি ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে তার দেশের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বেশ কয়েকটি দেশ বর্তমানে এই সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। ইরান এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি বজায় রাখতে নীতিগতভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও জাতির মর্যাদা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার প্রশ্নে কোনো প্রকার আপস করবে না বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিশেষ করে যারা যুদ্ধের উসকানি দিয়েছে তাদের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানান। যদিও সুনির্দিষ্টভাবে কোনো মধ্যস্থতাকারী দেশের নাম তিনি প্রকাশ করেননি তবে কূটনৈতিক মহলে এ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে।
অশান্ত এই পৃথিবীর বুকে যুদ্ধের দামামা যখন বেজে ওঠে তখন তার প্রতিটি আঘাত মানবতাকে রক্তাক্ত করে। সীমানার সংঘাত আর শক্তির আস্ফালন সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঠেলে দেয় যার নিরসন কেবল বারুদের আগুনে সম্ভব নয়। শান্তির অন্বেষায় আলোচনার যে জানালাটুকু খোলা রয়েছে তা যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আর ন্যায়ের ভিত্তিতে সফল হয় সেটিই এখন বিশ্ববিবেকের কাছে একমাত্র প্রত্যাশা। আমরা এমন এক ভোরের প্রতীক্ষায় রইলাম যেখানে অস্ত্রের ঝনঝনানি থেমে গিয়ে আলাপ-আলোচনার টেবিলে রচিত হবে সম্প্রীতির নতুন ইতিহাস। এভাবেই প্রতিটি জনপদ হয়ে উঠুক নিরাপদ এবং আগামীর প্রতিটি শিশু যেন এক শান্তিময় ও বৈষম্যহীন পৃথিবীতে বেড়ে ওঠার নিশ্চয়তা পায়।