কৃষি ও মৎস্য সম্পদে নতুন দিগন্ত: গোয়াইনঘাটে কেন্দা খাল পুনঃখনন কাজের শুভ সূচনা
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সাতকুড়িকান্দি কেন্দা খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে গৃহীত এই উদ্যোগটি অত্র অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে সাতকুড়িকান্দি, তুরালী কান্দি, হাতির কান্দি, ডাকাতি কান্দি এবং কাঠল কুড়ি কান্দি গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে এই খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়। উৎসবমুখর এই আয়োজনে ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুউদ্দিন রাঙ্গা মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও যুবদল নেতা সাব্বির আহমদ, নুরুল ইসলাম মেম্বার, নাজিম উদ্দিন, আব্দুল মতিন, মশাইদ আলী, মইনুদ্দিন, আব্দুল্লাহ, দেলোয়ার হোসেন, নাজমুল ইসলাম, মোখলিসুর রহমান, ফয়েজ উদ্দিন, আব্দুল সাত্তার ও আল আমিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই জনহিতকর কাজে শরিক হন।
কেন্দা খাল পুনঃখননের এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে এই খনন প্রক্রিয়ার ফলে অত্র এলাকার কৃষি উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং সেচ সুবিধার প্রসারে কৃষকদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। বিশেষ করে খরা মৌসুমে যখন পানির সংকট তীব্র হয় তখন এই খালটি একটি বিশাল জলাধার হিসেবে কাজ করবে যা শুষ্ক মৌসুমে সেচ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনাবাদি জমিকে চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসবে। এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনেও এই খালটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়রা মনে করছেন যা বর্ষা মৌসুমে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়ক হবে।
প্রকৃতির এই আশীর্বাদপুষ্ট জলাশয়টি কেবল চাষাবাদ নয় বরং দেশীয় মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। খালের গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানে দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশবিস্তার সহজ হবে যা গ্রামীণ পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এলাকার মৎস্যজীবীরা মনে করছেন এই উদ্যোগটি তাদের জীবিকার পথকে আরও সুগম ও টেকসই করবে। খনন কাজ শুরু হওয়ায় গ্রামবাসীদের মাঝে যে উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে তা মূলত এক সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর আগামী গড়ার দৃঢ় সংকল্পেরই বহিঃপ্রকাশ।
মাটির বুক চিরে যখন প্রাণের সঞ্চার ঘটে তখন সেই শ্রমের ঘাম আর মাটির ঘ্রাণ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় সমৃদ্ধির স্বপ্নে। একটি খালের পুনর্জন্ম কেবল পানির প্রবাহ নয় বরং এটি হাজারো কৃষকের চোখের ভাষা আর সোনালী ফসলের নীরব প্রতিশ্রুতি। আমাদের গ্রামবাংলার এই চিরচেনা রূপ যখন আধুনিক পরিকল্পনার ছোঁয়ায় জেগে ওঠে তখন তা কেবল একটি জনপদের উন্নয়ন নয় বরং সামগ্রিক বাংলাদেশের আত্মনির্ভরশীলতার জয়গান গায়। আমরা বিশ্বাস করি কেন্দা খালের এই বহমান ধারা ডৌবাড়ী ইউনিয়নের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেবে প্রাচুর্য আর শান্তির বার্তা। এভাবেই ছোট ছোট উদ্যোগের হাত ধরে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এগিয়ে যাবে এক আলোকিত ও সফল আগামীর দিকে।