ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত অবকাঠামো বিধ্বস্ত করার দাবি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের এক সপ্তাহ অতিক্রান্ত হওয়ার পর ইরানের নৌ-বিমানবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার (৭ মার্চ) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে গত সাত দিনে মার্কিন বাহিনী অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জন করেছে যা সাধারণ কল্পনার বাইরে। তার মতে এই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ইরানের সামরিক শক্তির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং দেশটির সক্ষমতা এখন এক সংকটাপন্ন অবস্থায় উপনীত হয়েছে। হোয়াইট হাউজ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ইরানের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে আঘাত হানছে যা আন্তর্জাতিক মহলে এক নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইরান তাদের ৪৪টি গুরুত্বপূর্ণ রণতরী হারিয়েছে এবং দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের একটি বড় অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার হার বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে যার প্রধান কারণ হিসেবে তিনি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে নিখুঁত নিশানায় মার্কিন আক্রমণের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরানের যে শক্তিশালী অবস্থান ছিল সেটিও এখন অনেকাংশে স্তিমিত হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে ইরানের সামরিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করার মাধ্যমে তাদের কমান্ড স্ট্রাকচারকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে যা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এই যুদ্ধ কতকাল স্থায়ী হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান যে লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও আক্রমণাত্মক অবস্থান অদূর ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। ওয়াশিংটনের এই দাবিগুলো যদি সত্য প্রমাণিত হয় তবে তা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যে এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসবে যা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির জন্য এক অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
বারুদের ধোঁয়ায় যখন দিগন্ত ঝাপসা হয়ে আসে তখন শক্তির এই মহড়া কেবল ধ্বংসের বার্তাই বহন করে না বরং এটি শান্তি ও স্থিতিশীলতার চরম অনিশ্চয়তাকেও ফুটিয়ে তোলে। আকাশচুম্বী দম্ভ আর ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন ছাপিয়ে আমরা এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি যেখানে কোনো দেশ বা জাতি আতঙ্কে বিভোর থাকবে না। ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় সাক্ষী দেয় যে ধ্বংসের চেয়ে নির্মাণই কঠিন এবং যুদ্ধের চেয়ে শান্তি অনেক বেশি মূল্যবান। আমরা প্রত্যাশা করি অস্ত্রের দাপট থেমে গিয়ে একদিন বিবেকের জয় হবে এবং প্রতিটি জনপদ যুদ্ধের বিভীষিকা কাটিয়ে এক শান্তিময় ও নিরাপদ ভোরের দেখা পাবে। এভাবেই মানবতার জয়গান গেয়ে পৃথিবী ফিরে আসুক তার চিরন্তন সম্প্রীতির পথে আর আগামীর প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তাদের হারানো নিরাপত্তা ও সুন্দর আগামীর নিশ্চয়তা।