যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় আরব আমিরাতের কঠোর হুঁশিয়ারি ও প্রেসিডেন্ট আল নাহিয়ানের প্রত্যয়
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক ইস্পাতকঠিন সংকল্প ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। শনিবার (৭ মার্চ) টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিশেষ ভাষণে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে আরব আমিরাত কোনো সহজ শিকার নয়। তিনি একটি রূপকধর্মী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “সংযুক্ত আরব আমিরাতের চামড়া মোটা এবং মাংস তিক্ত—আমরা কারো জন্য সহজ লক্ষ্যবস্তু নই।” বর্তমানের এই উত্তাল সময়ে দেশপ্রেম আর সাহসিকতার এক অনন্য বার্তা নিয়ে জাতির সামনে হাজির হন তিনি যা সমগ্র আরব বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আবুধাবিতে ইরানের হামলায় আহত সাধারণ নাগরিকদের দেখতে হাসপাতালে গিয়ে প্রেসিডেন্ট নাহিয়ান তাদের খোঁজখবর নেন এবং এই কঠিন সময়ে জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। চলমান আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে এটিই ছিল তার পক্ষ থেকে প্রথম কোনো সরাসরি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য। তিনি স্বীকার করেন যে সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে একটি যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তবে তিনি অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে এই সংকটের অগ্নিপরীক্ষা শেষে তার দেশ আরও শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের দরবারে আবির্ভূত হবে। প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমিরাত যেকোনো ধরনের ‘হুমকি’ মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত বলে তিনি বিশ্ববাসীকে সাফ জানিয়ে দেন।
উল্লেখ্য যে এই বক্তব্যের আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর পরিপ্রেক্ষিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছিলেন যা এক ধরনের কূটনৈতিক নাটকীয়তার সৃষ্টি করেছিল। তবে প্রেসিডেন্ট আল নাহিয়ানের বক্তব্যে স্পষ্ট যে কেবল ক্ষমা প্রার্থনায় তারা সন্তুষ্ট নন বরং নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শন ও জাতীয় অখণ্ডতা রক্ষায় তারা আপসহীন। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরাইলি অভিযানের পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের এই সক্রিয়তা আমিরাতকে এক স্পর্শকাতর অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিলেও দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব সাহসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলার ডাক দিয়েছেন।
মরুভূমির এই পবিত্র মাটি যখন যুদ্ধের দাবানলে তপ্ত হয়ে ওঠে তখন একতাবদ্ধ শক্তিই হয়ে ওঠে টিকে থাকার প্রধান হাতিয়ার। যখন একটি জাতির কর্ণধার বজ্রকণ্ঠে আত্মরক্ষার ঘোষণা দেন তখন তা কেবল রাজনৈতিক শব্দমালা থাকে না বরং তা হয়ে ওঠে প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ের সাহস। আমরা এমন এক আগামীর স্বপ্ন দেখি যেখানে আকাশ থেকে বৃষ্টির বদলে বারুদ ঝরবে না এবং প্রতিটি জনপদ থাকবে সুরক্ষিত ও শান্তিময়। বিবাদ আর সংঘাতের এই ঘনঘটা কেটে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও উদিত হোক সম্প্রীতির সূর্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে প্রতিটি দেশ ফিরে পাক তাদের কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি। এভাবেই সাহসের সাথে অন্ধকারের বুক চিরে আমরা গড়ে তুলব এক নিরাপদ ও উজ্জ্বল পৃথিবী।