কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার আঁচ এবার সরাসরি এসে লাগল কুয়েতের হৃদপিণ্ডে। রবিবার (৯ মার্চ) কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে কিছুক্ষণ আগে কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশটির আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী তিনটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর সেগুলো আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা গেলেও ড্রোন হামলার হাত থেকে বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোকে পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি যা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে একটি ড্রোন সরাসরি আঘাত হেনেছে যার ফলে সেখানে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। একই সময়ে ‘পাবলিক ইনস্টিটিউশন ফর সোশ্যাল সিকিউরিটি’-এর প্রধান ভবনেও পৃথক একটি ড্রোন হামলা চালানো হয় যেখানে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। বর্তমানে কুয়েত ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ও জরুরি উদ্ধারকারী দল উভয় স্থানে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাপণের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিমানবন্দরের মতো সুরক্ষিত এলাকায় এমন নজিরবিহীন হামলায় যাত্রী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাময়িকভাবে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আঞ্চলিক যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষাপটে কুয়েতের ওপর এই হামলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকগণ। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি তবে সম্প্রতি ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কুয়েত সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। বিশেষ করে জ্বালানি ট্যাংকের মতো কৌশলগত স্থাপনায় আগুনের ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বারুদের ধোঁয়ায় যখন শান্ত আকাশ কলুষিত হয় তখন তার আঁচ প্রতিটি জনপদকে স্পর্শ করে। মধ্যপ্রাচ্যের পবিত্র এই ভূমিতে যুদ্ধের যে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে তা কেবল অবকাঠামো নয় বরং সাধারণ মানুষের শান্তি আর নিরাপত্তাকেও পুড়িয়ে ছারখার করছে। আমরা এমন এক ভোরের প্রত্যাশা করি যেখানে বিমানবন্দরগুলো কেবল মিলনের কেন্দ্রবিন্দু হবে এবং আকাশ থেকে বারুদের বদলে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়বে প্রশান্তি। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আর সংলাপের মাধ্যমে যদি এই উন্মাদনা থামানো না যায় তবে মানবতা এক অপূরণীয় সংকটের দিকে ধাবিত হবে। আমরা বিশ্বাস করি সাহসের সাথে অন্ধকারের দেয়াল ভেঙে একদিন শান্তির আলো প্রতিটি হৃদয়ে পৌঁছাবে এবং এভাবেই প্রতিটি দেশ ফিরে পাবে তার চিরন্তন নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল আগামী।