সীমান্তে ধরা পড়ল হাদি হত্যার মূল হোতা ও সহযোগী
বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। ৯ মার্চ ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এই গ্রেপ্তারের খবরটি নিশ্চিত করে। জানা গেছে যে গত ৮ মার্চ রাতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি পটুয়াখালী জেলায় এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেন ঢাকার বাসিন্দা। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে আত্মগোপন করেছিলেন।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তারা প্রথমে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে শেষ পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বনগাঁ এলাকায় এসে অবস্থান নেন। ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছে যে তারা পুনরায় অবৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন। ৯ মার্চ তাদের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তাদের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে হাদি হত্যা মামলার তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
একটি সুন্দর আগামীর স্বপ্ন নিয়ে যারা রাজপথে নামেন তাদের পথচলা যখন অসময়ে থমকে যায় তখন গোটা জাতি এক গভীর শূন্যতা অনুভব করে। মানুষের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে শরীফ ওসমান হাদির যে আত্মত্যাগ তা কেবল একটি শোক সংবাদ নয় বরং তা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক অবিনাশী প্রতিবাদ। ঘাতকেরা সীমানা পেরিয়ে পালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ন্যায়ের কাছে পরাজিত হয়েছে যা প্রমাণ করে যে অন্ধকার পথে চললে মুক্তি মেলে না। প্রতিটি প্রাণের মূল্য যখন রাষ্ট্র ও সমাজ দিতে শিখবে তখনই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি নিরাপদ হয়ে উঠবে। শহীদ হাদির রেখে যাওয়া আদর্শ যেন আমাদের প্রতিটি তরুণকে সাহসের সাথে মাথা তুলে দাঁড়ানোর প্রেরণা জোগায়। এক শান্তিময় ও বৈষম্যহীন পৃথিবীর পথে এগিয়ে যাক আমাদের ভালোবাসা আর ন্যায়বিচারের জয়গান।