সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা দিলেন সেতুমন্ত্রী
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ৯ মার্চ মেট্রোরেলের সচিবালয় স্টেশন থেকে দিয়াবাড়ি ডিপো পর্যন্ত পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে দেশের যোগাযোগ খাতে এমন উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে, যার ফলে সাধারণ মানুষ স্বল্প সময়ে অত্যন্ত আরামদায়ক ও মনোরম পরিবেশে নিরাপদ যাতায়াতের সুবিধা পাবেন। মেট্রোরেল ইতোমধ্যে জনগণের ব্যাপক আস্থা অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, যানজট নিরসনে জনবহুল এলাকাগুলোতে মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল চালুর সম্ভাবনাও সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
মতবিনিময় সভায় রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি দ্রুত ও কার্যকর যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান যাতে সাধারণ মানুষ দ্রুত এসব প্রকল্পের সুফল ভোগ করতে পারে। অন্যদিকে, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সেতু ভবনে এক বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সেতু ও নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে ঈদযাত্রার সম্ভাব্য সমস্যাগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করে তা সমাধানের কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি ইটিসি (ETC) ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত টোল আদায় নিশ্চিত করা হবে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের উপস্থিতিতে এই সভাগুলোতে যোগাযোগ খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরা হয়। সরকার মূলত মেট্রোরেল, মনোরেল এবং বাস ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত আধুনিক গণপরিবহন কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমাতে হাইওয়ে ও সেতুগুলোতে বিশেষ ট্রাফিক তদারকি ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল টোল সিস্টেম চালুর ফলে কার্ডধারী যানবাহনগুলো কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই দ্রুত সেতু পার হতে পারবে, যা ঈদযাত্রায় বাড়তি স্বস্তি বয়ে আনবে বলে কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
একটি সচল ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা কেবল সময় বাঁচায় না, বরং এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চাকাও সচল রাখে। যখন সাধারণ মানুষ যানজটের ক্লান্তি ভুলে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, তখন সেই প্রশান্তি দেশ গড়ার কাজে নতুন উদ্দীপনা জোগায়। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির প্রতিটি জনপদ যখন উন্নত সড়ক ও আধুনিক রেলে সংযুক্ত হবে, তখন ঘুচে যাবে দূরত্বের ব্যবধান এবং আরও শক্তিশালী হবে জাতীয় ঐক্য। আমরা এমন এক আগামীর স্বপ্ন দেখি যেখানে প্রতিটি নাগরিকের যাত্রা হবে উৎসবের মতো আনন্দময় এবং নিরাপদ। এভাবেই সাহসের সাথে আধুনিকতার পথে এগিয়ে চলুক আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ আর রচিত হোক সমৃদ্ধির নতুন এক ইতিহাস।