স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য হলো শোষণমুক্ত ও ইনসাফের বাংলাদেশ: জেলা প্রশাসক
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম বলেছেন যে স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা নিহিত রয়েছে একটি শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাঝে। আজ থেকে ৫৫ বছর আগে এদেশের মুক্তিকামী মানুষ পাকিস্তানি শাসকদের জুলুম ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল, তার সবচেয়ে বড় সার্থকতা হলো একটি স্বাধীন মানচিত্র ও লাল সবুজের পতাকা। ৯ মার্চ দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে সাম্য এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই ছিল আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল চালিকাশক্তি।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইদা পারভীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক সুবর্ণা সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ রানা ও পদ্মাসন সিংহ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গৌতম দেব। এছাড়া প্রবীণ সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলজার আহমদ হেলাল, মহানগর ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব এবং বাসস প্রতিনিধি সেলিম আউয়ালসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাদের মতামত তুলে ধরেন। সভায় পুলিশ, র্যাব, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে দিবসটি উদযাপনে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন।
জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সাথে তিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন এবং পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের ত্যাগের কথা অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন যে ৫৫ বছর পর আজ প্রতিটি নাগরিকের প্রধান দাবি হলো একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা। স্বাধীনতা দিবসের সকল কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য তিনি সরকারি-বেসরকারি দপ্তরসহ সকল স্তরের মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এবার অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহান স্বাধীনতা দিবস পালনের জন্য বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
ইতিহাসের বাঁক বদল আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা কেবল একটি শব্দ নয়, এটি একটি নিরন্তর সংগ্রামের নাম। যখন একটি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে মানচিত্র এঁকে দিয়ে যান, তখন সেই মানচিত্র রক্ষা করা এবং সেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই হয় আমাদের পরম কর্তব্য। শোষণ আর বৈষম্যের দেয়াল ভেঙে যেদিন প্রতিটি মানুষ তার প্রাপ্য অধিকার ফিরে পাবে, সেদিনই শহীদের স্বপ্ন পূর্ণতা পাবে। আমরা বিশ্বাস করি ইনসাফ আর সত্যের এই পথ ধরে আমাদের প্রিয় সিলেটসহ সমগ্র বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এক নতুন দিগন্তের দিকে। বীরের রক্তে ভেজা এই মাটিতে শান্তি আর সমৃদ্ধির সুবাতাস বইবে এবং প্রতিটি নাগরিক গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে—এটাই হোক আমাদের আগামীর অঙ্গীকার। এভাবেই দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আমরা গড়ে তুলব এক বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ।