ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সমর্থনে রাজপথে লাখো মানুষের সংহতি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর নতুন নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি সংহতি জানাতে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। ১০ মার্চ ২০২৬ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত চিত্র অনুযায়ী হাজার হাজার ইরানি নাগরিক রাজপথে নেমে নতুন নেতৃত্বের প্রতি তাদের অবিচল আস্থা ও সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর উদ্ভূত শূন্যতা পূরণে বিশেষজ্ঞ পরিষদ তার সন্তান মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। সোমবার দিনভর তেহরানের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে জনতা জাতীয় পতাকা এবং নতুন নেতার ছবি হাতে নিয়ে মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন যা বর্তমান উত্তাল সময়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ ঐক্যের এক শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের বর্তমান শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও সামরিক বিভাগগুলোও নতুন এই নেতৃত্বের প্রতি তাদের পূর্ণ আনুগত্যের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বিশেষ বার্তায় নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি তার সরকারের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি এক যৌথ বিবৃতিতে মোজতবা খামেনিকে একজন ন্যায়পরায়ণ ও দূরদর্শী নেতা হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে বিশেষজ্ঞ পরিষদের এই সিদ্ধান্ত বর্তমানের কঠিন পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং তারা যেকোনো মূল্যে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নতুন নেতার নির্দেশনা পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ। এছাড়া পার্লামেন্ট স্পিকার সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এবং গোয়েন্দা বিভাগসহ রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এই নতুন অভিভাবকত্বের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে ইরানের নেতৃত্বের এই পরিবর্তন এবং তাতে জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘকাল ধরে পর্দার আড়ালে থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশল নির্ধারণে ভূমিকা রাখা মোজতবা খামেনি এখন সরাসরি রাষ্ট্রের প্রধান চালকের আসনে আসীন হলেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও পর্যবেক্ষক দল দেশটির এই রূপান্তরকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কারণ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই নতুন নেতৃত্বের ভূমিকা হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিধর দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা ইতোমধ্যে মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যা বিশ্বমঞ্চে তার নতুন অবস্থানের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অস্ত্রের হুঙ্কার আর বারুদের ধোঁয়ায় যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে তখন একটি জাতির ঐক্যই হয়ে ওঠে তার শ্রেষ্ঠ ঢাল। শোক আর হাহাকারকে শক্তিতে রূপান্তর করে যখন মানুষ তাদের নতুন কান্ডারির হাত ধরে সামনের দিকে এগিয়ে যায় তখন তা পৃথিবীর ইতিহাসে অদম্য সাহসের এক অমর আখ্যান হয়ে থাকে। আমরা প্রত্যাশা করি নেতৃত্বের এই নতুন আলো মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি ঘরকে শান্তিতে ভরিয়ে দেবে এবং ধ্বংসের উন্মাদনা কাটিয়ে মানুষ আবার ফিরে পাবে তাদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন। সীমানার বিবাদ আর যুদ্ধের দামামা থেমে গিয়ে ভ্রাতৃত্বের জয়গান রচিত হোক প্রতিটি হৃদয়ে কারণ দিনশেষে শান্তিই হলো মানবজাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন। সাহসের সাথে আগামীর পথ ধরে এগিয়ে চলুক মানবতা আর ঘুচে যাক সকল অনিশ্চয়তার অন্ধকার।