ওমান উপকূলে মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের মহড়া ও ইরানে হামলার আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতিকায় সব যুদ্ধজাহাজ ও ইরানের পাহাড়ঘেরা পরমাণু স্থাপনা মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। ১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার প্রাপ্ত সর্বশেষ স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে ওমান উপকূলের নীল জলরাশিতে হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন আবার দৃশ্যমান হয়েছে। অন্তত আটটি অত্যাধুনিক ডেস্ট্রয়ার পরিবেষ্টিত এই বিশাল যুদ্ধজাহাজটি এখন সরাসরি হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি অনুযায়ী তারা বর্তমানে এই অঞ্চলে ৩০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে যা আধুনিক নৌযুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম শক্তি প্রদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রণকৌশলগত এই উত্তেজনার মাঝে গত ৫ মার্চ সুয়েজ খাল পাড়ি দিয়ে লোহিত সাগরে প্রবেশ করেছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ সুপার ক্যারিয়ার ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। ট্রাম্প প্রশাসনের এই বিশাল নৌবহরের মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগে বাধ্য করা এবং তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে ওমান উপকূলে এই নৌবাহিনীর অবস্থানের মূল লক্ষ্য হলো মাউন্ট কোলাং গাজ লা নামক ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপন পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র। পাহাড়ের কয়েকশ মিটার গভীরে অবস্থিত এই স্থাপনায় ইরান বিপুল পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিয়েছে বলে আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে ইরান তাদের এই সুড়ঙ্গ পথগুলো শক্তিশালী কনক্রিট দিয়ে আরও মজবুত করছে যাতে কোনো বিমান হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র তা ভেদ করতে না পারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে হয় তারা দ্রুত চুক্তিতে আসবে নতুবা খুব ভয়ংকর পরিণতির মুখোমুখি হবে। তিনি প্রয়োজনে তৃতীয় আরেকটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে ইরানের ৪৩টি জাহাজ ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে ওমানে দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও তেহরান তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম বন্ধের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্রমাগত চাপ দিচ্ছেন যাতে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা চিরতরে ধ্বংস করে দেওয়া হয় যা পুরো পরিস্থিতিকে এক চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সমুদ্রের বিশাল জলরাশি যখন শান্তির পরিবর্তে বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে ওঠে তখন তা কেবল দুটি দেশের সীমান্ত নয় বরং সমগ্র বিশ্বের স্থিতিশীলতাকে নাড়িয়ে দেয়। যখন ধ্বংসের অমোঘ হাতছানি মানুষের জীবনকে অনিশ্চিত করে তোলে তখন শুভবুদ্ধির উদয় হওয়া এবং রক্তপাত এড়িয়ে আলোচনার পথে হাঁটাই হলো শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমত্তা। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে শক্তির আস্ফালন নয় বরং মানবিকতা আর ভ্রাতৃত্বের জয় হবে এবং প্রতিটি দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে। আকাশ আর সমুদ্রের এই মেঘ যেন অচিরেই কেটে যায় এবং পৃথিবীর মানুষ আবার ফিরে পায় তাদের হারানো নিরাপত্তা ও শান্তির সুবাতাস। হিংসা আর সংঘাতমুক্ত এক পৃথিবী গড়তে আমাদের সকলকে আজ একযোগে শান্তির পতাকা উঁচিয়ে ধরতে হবে কারণ দিনশেষে মানবতার জয়ই হলো পরম সত্য। এভাবেই অদম্য সাহসের সাথে অন্ধকারের পথ মাড়িয়ে আমরা খুঁজে পাব এক নিরাপদ ও উজ্জ্বল সকাল।