নারী ক্ষমতায়নে বড় পদক্ষেপ হিসেবে প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছে ৩৭ হাজার পরিবার
দেশের নারী প্রধান পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করা এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে লক্ষে সরকার পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে যাচ্ছে। ১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী এই বিশেষ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন। সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন ৯ মার্চ সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান যে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার নির্বাচিত সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। প্রথম ধাপে মোট ৩৭ হাজার ৫৬৪টি নারী প্রধান পরিবার এই আধুনিক স্মার্ট কার্ডের সুবিধা ভোগ করবে যার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডের বিপরীতে একটি পরিবার মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ ভাতা পাবেন। এই অর্থ সরাসরি জি-টু-পি পদ্ধতিতে উপকারভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে যার ফলে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই স্বচ্ছতার সাথে সরকারি সহায়তা জনগণের হাতে পৌঁছাবে। প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসবে এবং ভবিষ্যতে নগদ অর্থের পাশাপাশি সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে এই কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা পান তবে আগের সুবিধাটি বাতিল বলে গণ্য হবে তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের নিজস্ব ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন।
উপকারভোগী নির্বাচনে সরকার অত্যন্ত আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছে যেখানে ওয়ার্ড ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটির সদস্যরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। পরিবারের সদস্যসংখ্যা শিক্ষা বাসস্থান ও গৃহস্থালি সামগ্রীর তথ্য যাচাই করে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্টের ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬৭ হাজার পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে ৩৭ হাজার ৫৬৪টি পরিবারকে যোগ্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবী পেনশনভোগী বড় ব্যবসায়ী বা বিলাসবহুল সম্পদের মালিক এমন পরিবারগুলো এই ভাতার আওতাভুক্ত হবে না। বিতরণকৃত প্রতিটি কার্ডে কন্টাক্টলেস চিপ কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি যুক্ত থাকবে যা কার্ডটিকে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী করবে।
একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা প্রদান করা উন্নত রাষ্ট্র গড়ার অন্যতম প্রধান শর্ত। যখন একটি পরিবারের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে নারী তার প্রাপ্য সম্মান ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা সরাসরি হাতে পায় তখন সেই পরিবারটি অন্ধকার কাটিয়ে আলোর পথে যাত্রা শুরু করে। আমরা এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে প্রতিটি মা ও বোন মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে এবং তাদের মেধা ও শ্রমে গড়ে উঠবে এক বৈষম্যহীন সমাজ। প্রযুক্তির এই ছোঁয়ায় সরকারি সেবা যখন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায় তখন তা কেবল একটি কার্ড থাকে না বরং হয়ে ওঠে আগামীর সুন্দর জীবনের এক অমোঘ নিশ্চয়তা। সাহসের সাথে আধুনিকতার এই পথে এগিয়ে চলুক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এবং প্রতিটি ঘরে উৎসবের আমেজে ছড়িয়ে পড়ুক সমৃদ্ধির এই নতুন বার্তা।