বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা ও সরকারের সহযোগিতা কামনা
দেশের বেসরকারি খাতের ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে মজুত থাকা জ্বালানি দিয়ে আগামী এক মাসের বেশি উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। ১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ ইনডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (বিআইপিপিএ) এর নেতারা সতর্ক করে বলেছেন যে দ্রুত জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা না করা হলে সামনে সেচ মৌসুম ও তীব্র গরমে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সোমবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি ডেভিড হাসনাত ও সাবেক সভাপতি ইমরান করিম বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকট এবং সরকারের কাছে বিশাল অংকের বকেয়া পাওনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জানান যে বর্তমানে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুত আছে তা দিয়ে বড়জোর আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
বিআইপিপিএ নেতৃবৃন্দ জানান যে সাত দিন আগে পর্যন্ত বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল মজুত ছিল যা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। সংগঠনের সাবেক সভাপতি ইমরান করিম উল্লেখ করেন যে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশই আসে বেসরকারি খাত থেকে। অথচ গত ছয় থেকে নয় মাস ধরে বিল পরিশোধ না করায় প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া জমেছে যা জ্বালানি আমদানি ও কেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। তিনি আরও জানান যে অতীতে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম যখন অস্বাভাবিক বেড়েছিল তখন সাশ্রয়ী ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরকারের প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছিল। বর্তমানে এলএনজির ক্রমবর্ধমান দামের তুলনায় তেলভিত্তিক উৎপাদন অনেক ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিআইপিপিএ এর সহ সভাপতি ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী বলেন যে বেসরকারি খাতের প্রচেষ্টায় দেশে বর্তমানে দক্ষ দেশীয় প্রকৌশলী তৈরি হয়েছে যারা বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এনেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সংগঠনের সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানান যে সামনে তীব্র গরমে দেশে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সচল রাখতে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ এবং বকেয়া বিল দ্রুত পরিশোধ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড হলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ আর সেই আলো যখন নিভে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে তখন থমকে যায় প্রগতির চাকা। উদ্যোক্তাদের এই আর্তনাদ কেবল একটি খাতের সমস্যা নয় বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে সঠিক সমন্বয় আর সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে জ্বলবে আশার প্রদীপ এবং কলকারখানার চাকা ঘুরবে পূর্ণ শক্তিতে। অন্ধকার কাটিয়ে আলোর এই যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারস্পরিক আস্থা ও দায়িত্বশীলতা আজ বড্ড প্রয়োজন। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে আমরা গড়ে তুলব এক স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ যেখানে বিদ্যুতের অভাব কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। সাহসের সাথে সংকটের মেঘ সরিয়ে এগিয়ে চলুক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এবং প্রতিটি জনপদ আলোকিত থাকুক সমৃদ্ধির চিরন্তন আলোয়।