লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৬
লেবানন জুড়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অব্যাহত বিমান ও ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে। ১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই রক্তাক্ত অভিযানে এখন পর্যন্ত ৪৮৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৩১৩ জন যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরগুলোতে ইসরাইলি বাহিনী তাদের আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে যা জনমনে চরম আতঙ্ক ও মানবিক সংকটের সৃষ্টি করেছে।
সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের বুর্জ রাহাল শহরে একটি চলন্ত গাড়িকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এই ড্রোন হামলায় গাড়ির আরোহীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া সিফরা শহরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়েছে যার ফলে আবাসিক এলাকা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করছে যে তারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে তবে লেবানন সরকারের তথ্য বলছে নিহতের একটি বড় অংশই সাধারণ নাগরিক। হামলার কারণে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়ে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে যে আহতদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে এবং জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা এই হামলা বন্ধের আহ্বান জানালেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পুরো অঞ্চল এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে যা বিশ্বশান্তির জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বারুদের ধোঁয়ায় যখন আকাশ কালো হয়ে ওঠে আর স্বজন হারানো আর্তনাদে বাতাস ভারী হয় তখন মানবতা ডুকরে কেঁদে ওঠে। একটি স্বাধীন জনপদের ওপর যখন অন্যায়ভাবে অস্ত্রের আস্ফালন চলে তখন তার ক্ষত কেবল সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকে না বরং প্রতিটি শান্তিকামী মানুষের হৃদয়ে আঘাত হানে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে কামানের গর্জন থেমে গিয়ে সংলাপের টেবিলে শান্তির সমাধান হবে। প্রতিটি শিশুর শৈশব যেন বোমার আতঙ্কে নয় বরং খেলার মাঠে নির্ভয়ে কাটে এটাই আমাদের কাম্য। অন্ধকারের এই দেয়াল ভেঙে একদিন শান্তির সুবাতাস বইবে এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাবে তার হারানো নিরাপত্তা ও সুন্দর এক পৃথিবী। সাহসের সাথে সত্যের পথে চলেই আমরা জয় করব সকল অন্যায় আর প্রতিটি জনপদে প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায়ের চিরন্তন আদর্শ। এভাবেই শান্তির পতাকা হাতে এগিয়ে চলুক বিশ্ববিবেক এবং ঘুচে যাক যুদ্ধের এই কালো ছায়া।