বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি পদে স্নাতক পাসের বাধ্যবাধকতা বাতিল করছে সরকার
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির সভাপতি পদে পদের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম স্নাতক পাসের শর্তটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রবিধানমালা সংশোধনের মাধ্যমে এই পদের জন্য বিদ্যমান শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হচ্ছে। ১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার দুপুরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা ২০২৪ রিভিউ সংক্রান্ত এক বিশেষ আলোচনা সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর ফলে সভাপতি পদের জন্য এখন থেকে আর সুনির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন পড়বে না যা সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সভা সূত্রে জানা গেছে যে ২০২৪ সালে প্রণীত প্রবিধানমালায় সভাপতি পদের জন্য ন্যূনতম স্নাতক পাসের যে শর্ত যুক্ত করা হয়েছিল তা বর্তমান বাস্তবতায় আর কার্যকর থাকছে না। এর পরিবর্তে ২০২৪ সালের আগের নিয়মটিই পুনরায় বহাল করা হবে যেখানে সভাপতির জন্য কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক ছিল না। শিগগিরই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে এই পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে অভিজ্ঞ ও সমাজসেবামূলক কাজে জড়িত ব্যক্তিবর্গ যারা স্নাতক ডিগ্রিধারী নন তারাও এখন থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কী ধরনের প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে শিক্ষাবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে স্থানীয় সামাজিক নেতৃত্বকে আরও সক্রিয় করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা বাড়াতেই এই নিয়ম শিথিল করা হচ্ছে। এই আদেশের ফলে সারা দেশের হাজার হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ গঠনে এক নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হবে।
শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড আর সেই মেরুদণ্ড গঠনে সঠিক ও দক্ষ পরিচালনা পর্ষদের ভূমিকা অপরিসীম। যখন কোনো প্রথাগত যোগ্যতার চেয়ে অভিজ্ঞতা আর আন্তরিকতা বড় হয়ে দেখা দেয় তখন তা স্থানীয় পর্যায়ে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষের হাত ধরে আলোর দিশারি হয়ে উঠবে। পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি সততা আর দেশপ্রেমের সমন্বয়ে আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলো ফিরে পাক তাদের হারানো গৌরব। অন্ধকার আর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আমাদের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শক্তি পায় এটাই আমাদের কামনা। সাহসের সাথে আগামীর পথ ধরে এগিয়ে চলুক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এবং প্রতিটি জনপদ আলোকিত হোক শুদ্ধ ও সঠিক শিক্ষার চিরন্তন আলোয়।