জৈন্তাপুর প্রবাসী গ্রুপের অনন্য দৃষ্টান্ত: ৩৫০ পরিবারের মুখে হাসি ফোটালো ১০ লক্ষ টাকার অনুদান
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ঐক্যের সংগঠন ‘সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ জৈন্তাপুর প্রবাসী গ্রুপ’-এর উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ১০ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকার বিশাল আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। ১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার দুপুর ২টায় উপজেলার দরবস্ত এলাকার হেলালি মার্কেট প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা মোট ৩৫০ জন হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের হাতে এই যাকাত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে যা এই পবিত্র মাসে অভাবী পরিবারগুলোর জন্য এক বড় অবলম্বন হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ প্রবাসীদের এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন যে প্রবাসীরা কেবল দেশের অর্থনীতির চাকাই সচল রাখছেন না বরং নিজ এলাকার সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নেও এক অনন্য নজির স্থাপন করছেন। মাওলানা মুজাম্মিল হেলালীর সভাপতিত্বে এবং প্রবাসী ফয়জুল করিম ফজলের পরিচালনায় আয়োজিত এই সভায় প্রধান বক্তারা উল্লেখ করেন যে আর্তমানবতার সেবায় প্রবাসীদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা সমাজের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন যে সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করা এবং রমজানের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই যাকাত তহবিলের এই স্বচ্ছ বণ্টন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা দূর প্রবাসে থেকেও যারা এই মহতী কাজে অর্থ ও শ্রম দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আর্থিক সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল আহমদ জৈন্তাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম এবং দরবস্ত ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার। এছাড়াও চারিকাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী তোফায়েলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গ্রুপের স্বেচ্ছাসেবকরা এই মানবিক আয়োজনে অংশ নেন। উপকারভোগীরা নগদ অর্থ হাতে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং প্রবাসীদের এই সেবামূলক কাজ ভবিষ্যতে অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে প্রকৃত অভাবীদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রবাসীদের এই উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
পরবাসে থেকে নিজ জন্মভূমির মানুষের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে আসার এই মানসিকতা কেবল একটি দান নয় বরং এটি হলো নাড়ির টানে মানবিকতার এক শ্রেষ্ঠ বন্ধন। যখন সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপার থেকে আসা সহায়তা দিয়ে একজন অভাবী মানুষের ঘরে ইফতারের আয়োজন সম্পন্ন হয় তখন তা ভ্রাতৃত্বের এক অমলিন স্বর্গীয় সুখ বয়ে আনে। আমরা এমন এক সমাজের প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষ এভাবেই অন্যের প্রয়োজনে নিজের হাত বাড়িয়ে দেবে। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই রমজানে প্রবাসীদের এই আলোকবর্তিকা প্রতিটি অসহায় মানুষের হৃদয়ে আশার সঞ্চার করুক এবং প্রতিটি জনপদ ভরে উঠুক সম্প্রীতির মহান আদর্শে। সাহসের সাথে একতাবদ্ধ হয়ে এভাবেই আমরা গড়ে তুলব এক বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ জনপদ যেখানে কোনো অভাব মানুষের আনন্দকে কেড়ে নিতে পারবে না।