জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের প্রধান তেল ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত
দেশে চলমান জ্বালানি তেলের সংকটময় পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে তেলের প্রধান ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। ১১ মার্চ ২০২৬ বুধবার বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মার্চ মাসজুড়ে চলমান তেলের সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন ডিপো থেকে ডিলারদের পক্ষ থেকে আকস্মিক ও অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হওয়ায় পদ্মা অয়েল মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড তেল সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রধান স্থাপনাগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মহানগরের পতেঙ্গায় তেলের ডিপোর প্রধান স্থাপনাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যেসব কৌশলগত এলাকায় সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে তার মধ্যে রয়েছে খুলনা জেলার দৌলতপুর সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইল ও ফতুল্লা এবং দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর ও বরিশাল জেলার গুরুত্বপূর্ণ ডিপোগুলো। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অপারেশন ২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপণন কোম্পানিগুলোর স্থাপনার নিরাপত্তা রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া রোধ এবং যে কোনো ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পত্রে আরও বলা হয়েছে যে তেলের সরবরাহ চেইন সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিতরণ কেন্দ্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে তেলের লোডিং ও আনলোডিং প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে মজুতদারদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা সম্ভব হবে। সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে জনস্বার্থে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তেলের মজুত ও সরবরাহ তদারকিতে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না।
একটি রাষ্ট্রের অর্থনীতির রক্তপ্রবাহ হলো জ্বালানি আর সেই প্রবাহ যখন বাধার সম্মুখীন হয় তখন সমগ্র জাতির অগ্রযাত্রা থমকে যায়। সংকটের এই মেঘ কাটিয়ে সুশৃঙ্খল বণ্টনের মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়াই হলো সুশাসনের সার্থকতা। আমরা এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে প্রতিটি সম্পদ সঠিক হাতে সংরক্ষিত থাকবে এবং সাধারণ মানুষের হাহাকার আর অনিশ্চয়তা চিরতরে ঘুচে যাবে। দেশপ্রেম আর শৃঙ্খলার প্রতীক সেনাবাহিনীর ছোঁয়ায় আমাদের জাতীয় সম্পদগুলো নিরাপদ থাকুক এবং প্রতিটি জনপদ ফিরে পাক তার হারানো স্বস্তি ও স্বাভাবিক গতি। অন্ধকারের এই দেয়াল ভেঙে একদিন সমৃদ্ধির আলো প্রতিটি ঘরে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে এটাই আমাদের একমাত্র প্রার্থনা। সাহসের সাথে একতাবদ্ধ হয়ে এভাবেই আমরা জয় করব আগামীর সকল চ্যালেঞ্জ এবং শান্তি ও ন্যায়ের পথে এগিয়ে যাবে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।