দুদকের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন মঞ্জুর
আইনবহির্ভূতভাবে প্লট বরাদ্দের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬ বিচারপতি শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই জামিন আদেশ প্রদান করেন। সাবেক এই প্রধান বিচারপতির পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসরুল হক চৌধুরী এবং মোস্তাফিজুর রহমান খানসহ একদল অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ। আদালতের এই আদেশের ফলে তার কারামুক্তিতে আপাতত আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক এই বিচারপতির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এর আগে জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী আব্দুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা পৃথক চারটি মামলায় গত রোববার তাকে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। যদিও রাষ্ট্রপক্ষ সেই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে যা বর্তমানে চেম্বার আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া বেআইনি রায় প্রদান ও জাল নথি তৈরির অভিযোগে গত বছরের আগস্ট মাসে নারায়ণগঞ্জ ও শাহবাগ থানায় করা মামলাগুলোতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
উচ্চ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ ও জামিন প্রদানের বিষয়টি দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ায় এক নতুন মোড় নিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন এবং নুরুল ইসলাম মোল্লার করা মামলাগুলোতেও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। দুর্নীতি দমন কমিশনের করা এই বিশেষ মামলায় জামিন পাওয়ায় সাবেক প্রধান বিচারপতির মুক্ত হওয়ার পথ এখন অনেকটাই প্রশস্ত হলো। তবে রাষ্ট্রপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপরই চূড়ান্ত বিষয়টি নির্ভর করছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র প্রস্তুত করার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
ন্যায়ের পথে চলা এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাই প্রতিটি মানুষের জীবনের পরম ব্রত হওয়া উচিত। যখন সত্যের আলোয় অন্ধকার কেটে যায় তখন মানুষের মনে বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়। আমরা এমন এক আগামীর স্বপ্ন দেখি যেখানে প্রতিটি মানুষ তার কর্মের সঠিক বিচার পাবে এবং সমাজে সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। বিভেদ ভুলে ন্যায়ের পতাকাতলে একত্রিত হয়ে একটি সুন্দর ও কলুষমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় আমাদের সকলের মনে জাগ্রত থাকুক। সত্যের জয়গান গেয়ে এভাবেই আমরা খুঁজে নেব এক শান্তিময় ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।