গণআকাঙ্ক্ষার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নই লক্ষ্য: বিচ্ছিন্ন কোনো পদ নয় বরং জুলাই সনদের সব প্রস্তাবের দাবি জামায়াত আমিরের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা শফিকুর রহমান রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে এক আপসহীন ও দূরদর্শী অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। বুধবার (১১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আসন্ন প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে কেবল ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ বা কোনো একক পদকপ্রাপ্তি তাদের লক্ষ্য নয় বরং তারা জুলাই সনদের প্রতিটি প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত বাস্তবায়ন চান। ডা শফিকুর রহমান প্রত্যাশা করেন যে বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত সকল দায়িত্ব ও অধিকার যেন রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়।
জুলাই সনদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের যে ধারা রয়েছে সে প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দেন। তিনি বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রাপ্তি হিসেবে না দেখে বরং সামগ্রিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তার মতে জুলাই সনদে বর্ণিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো যদি পূর্ণাঙ্গভাবে গৃহীত ও বাস্তবায়িত না হয় তবে বিরোধী দল তাদের ন্যায্য দায়িত্ব পালনে বাধার সম্মুখীন হতে পারে। সংসদীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষায় সরকার তাদের সাথে যোগাযোগ করায় তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করলেও জনগণের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনো ছাড় না দেওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সাংবিধানিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে ডা শফিকুর রহমান একটি বিশেষ দিকের অবতারণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বিরোধী দলের সদস্যরা ইতোমধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও সংসদ সদস্য হিসেবে দ্বৈত শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন যা তাদের দায়িত্বশীলতারই প্রমাণ। তবে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে প্রথম শপথ গ্রহণের বিষয়টি এখনো বাকি রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দেশের ৬৯ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় ও জুলাইয়ের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোই এখন সময়ের দাবি বলে তিনি ক্ষমতাসীন পক্ষকে স্মরণ করিয়ে দেন।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে জনমনে যে কৌতূহল রয়েছে সে বিষয়ে তিনি গঠনমূলক সংসদীয় পরিবেশের আশা প্রকাশ করেন। ডা শফিকুর রহমান বিশ্বাস করেন যে গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি তখনই বিকশিত হয় যখন ভিন্নমতকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার অংশ করে নেওয়া হয়। তার কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে সেই ঐক্যের সুর যেখানে ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে দেশের বৃহত্তর স্বার্থ ও গণমানুষের প্রত্যাশাই মুখ্য। রাজনীতি যখন জনগণের আমানত রক্ষা আর ইনসাফ কায়েমের মাধ্যম হয়ে ওঠে তখনই একটি দেশ প্রকৃত সমৃদ্ধির পথে হাঁটে।