জ্বালানি বাজারে মহাপ্রলয়ের আশঙ্কা: তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছানোর হুঁশিয়ারি ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যের বারুদঠাসা ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ অস্থিরতার কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম অবনতি ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ মার্কিন ডলার স্পর্শ করতে পারে বলে কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে ইরান। বুধবার (১১ মার্চ) তেহরানের খাতাম আল আনবিয়া সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই আশঙ্কার কথা জানান। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হলে তার সরাসরি ও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর যার ফলে তেলের বাজার অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।
ইরানের সামরিক নীতিতে এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে জোলফাকারি জানান যে এখন থেকে যেকোনো আঘাতের জবাবে তারা পাল্টা আঘাত হানার কৌশল অবলম্বন করবে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলসহ তাদের মিত্র দেশগুলোর তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এমনকি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জাহাজ বা জ্বালানি ট্যাংকারগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তেহরানের এই অবস্থান বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে যা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনকে খাদের কিনারে ঠেলে দিতে পারে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সুর শোনা যাচ্ছে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান এই সংঘাত খুব দ্রুতই সমাপ্তির পথে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান যে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশার চেয়েও অধিক সাফল্য অর্জন করেছে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই অনেক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মহলে যথেষ্ট সংশয় ও নানামুখী প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে কারণ যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি ও দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি এখনো কুয়াশাচ্ছন্ন এবং অনিশ্চিত।
বৈশ্বিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে জ্বালানি তেলের স্থিতিশীল মূল্যের কোনো বিকল্প নেই। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা যদি দীর্ঘায়িত হয় তবে তার আঁচ কেবল উন্নত দেশগুলোতেই নয় বরং উন্নয়নশীল বিশ্বের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপরও সরাসরি আঘাত হানবে। যুদ্ধের দামামা আর পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ছাপিয়ে মানবিক পৃথিবী আজ শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশায় প্রহর গুনছে। কারণ ধ্বংস আর সংঘাত কখনো সমৃদ্ধি বয়ে আনতে পারে না বরং আলোচনার টেবিলে খুঁজে পাওয়া সমাধানই পারে বিশ্ববাজার ও মানবসভ্যতাকে এক অনিশ্চিত বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে।