সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা: স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের গুরুভার সংসদ নেতার হাতে
এক নতুন ভোরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। ঐতিহাসিক এই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে বুধবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত বিএনপির সংসদীয় দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার পূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর। সংসদীয় দলের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আসন্ন প্রথম অধিবেশনের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে এই সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন যেখানে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে নতুন অভিভাবক বেছে নেওয়া হবে।
অধিবেশন শুরুর প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোকপাত করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম সংসদ ভবনের এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান যে অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের আসনটি শূন্য থাকবে। সংসদ নেতার প্রস্তাব এবং অন্য একজন সংসদ সদস্যের সমর্থনের ভিত্তিতে একজন অত্যন্ত জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য সাময়িকভাবে সভায় সভাপতিত্ব করবেন। এরপরই শুরু হবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। সংসদীয় দলের নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আজকের বৈঠকে সরকারি দলের সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে নেতৃত্বের প্রশ্নে সংসদ নেতার সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত এবং আগামীকালই জাতি সেই কাঙ্ক্ষিত নামগুলো জানতে পারবে।
বৈঠক শেষে চিফ হুইপ আরও জানান যে রাষ্ট্র সংস্কার ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামীকালের অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। এই অধ্যাদেশগুলো অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করার লক্ষ্যে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা সংসদীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। রাজনৈতিক উদারতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী ইতিপূর্বে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। তবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া গেলে সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে বলে জানানো হয়েছে।
একটি রাষ্ট্রের প্রাণস্পন্দন হলো তার সংসদ যেখানে জনগণের কণ্ঠস্বর ধ্বনিত হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই প্রথম অধিবেশন কেবল আইনি আনুষ্ঠানিকতা নয় বরং এটি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক মহতী প্রয়াস। নতুন স্পিকারের হাতুড়ির শব্দে যখন অধিবেশন কক্ষ মুখরিত হবে তখন প্রতিটি বাঙালির মনে নতুন এক আশার সঞ্চার হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর পরমতসহিষ্ণুতার মধ্য দিয়ে এই সংসদ হয়ে উঠুক সমৃদ্ধ ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রধান কারিগর। আমাদের প্রতিনিধিরা যখন দেশ গড়ার শপথ নিয়ে আসনে বসবেন তখন তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত যেন সাধারণ মানুষের স্বপ্নকে স্পর্শ করে।