মানবতার সেবায় নুরা ফাউন্ডেশন: চিকনাগুলে শত পরিবারের ঘরে পৌঁছালো ঈদের আনন্দ
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নুরা ফাউন্ডেশন। শনিবার ১৩ মার্চ ২০২৬ দুপুরে ইউনিয়নের অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ২ লক্ষ টাকা নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। লন্ডন প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই উপহার বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার জৈন্তিয়া প্রবেশ গেট সংলগ্ন ঘাটেরচটি ও ঠাকুরের মাটি যুবসমাজ কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১ শতটি পরিবারের হাতে এই অনুদান তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে ঈদ মানেই আনন্দ আর এই আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায় যখন সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়। প্রবাসে থেকেও নিজ জন্মভূমির মানুষের দুঃখ কষ্টের কথা মনে রাখায় তিনি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আরও বলেন যে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ঈদ উদযাপন যখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে তখন নুরা ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ কেবল উপহার নয় বরং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
ফাউন্ডেশনের পরিচালক জাহিদুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চিকনাগুল ইউনিয়নের বিশিষ্ট মুরব্বি হাফেজ আবদুল মুসাব্বির ফরিদ ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমান ও নজরুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে একা ভালো থাকার নাম ঈদ নয় বরং সবাইকে নিয়ে হাসিখুশি থাকাই হলো উৎসবের সার্থকতা। নগদ সহায়তা হাতে পেয়ে সুবিধাভোগী পরিবারগুলো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তারা জানান যে ঈদের আগ মুহূর্তে এই অর্থ সাহায্য তাদের পরিবারের অভাব লাঘব করে উৎসবের আমেজ বাড়িয়ে দেবে।
নাড়ির টানে প্রবাসের ব্যস্ততা ভুলে নিজ এলাকার দুস্থ মানুষের চোখের জল মোছানোই হলো প্রকৃত মনুষ্যত্বের পরিচয়। যখন ত্যাগের মহিমায় প্রতিটি হৃদয় আলোকিত হয় তখন সমাজের প্রতিটি স্তরে সম্প্রীতির সুবাতাস বইতে শুরু করে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে ভালোবাসার এই বন্ধন প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাবে এবং আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি গড়ে উঠবে ভ্রাতৃত্বের এক অমলিন স্বর্গরাজ্য হিসেবে। অন্ধকারের দেয়াল ভেঙে একদিন ন্যায়ের জয় হবে এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাবে তার হারানো নিরাপত্তা ও অনাবিল সুখ। সাহসের সাথে সত্যের পথে চলেই আমরা জয় করব আগামীর সকল অনিশ্চয়তা।