মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ায় স্থান পেল শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জীবনী
ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার কৃতি সন্তান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতির পরিচিত মুখ শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বর্ণাঢ্য জীবন ও আত্মত্যাগের ইতিহাস এখন স্থান পেয়েছে বিশ্বখ্যাত মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ায়। শনিবার ১৪ মার্চ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তার রাজনৈতিক আদর্শ জীবন সংগ্রাম এবং মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাবলি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নিবন্ধ সেখানে সংকলিত হয়েছে। ১৯৯৩ সালের ৩০ জুন নলছিটিতে জন্ম নেওয়া এই মেধাবী ব্যক্তিত্ব ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদরাসা থেকে শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক পাঠ শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে তিনি শিক্ষকতা লেখালেখি এবং বিভিন্ন সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সুধীসমাজে সমাদৃত হন। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা তাকে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় নিয়ে আসে। উইকিপিডিয়ার নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে জুলাই শহীদদের অধিকার রক্ষা ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী অবস্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। এমনকি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা আট আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রকাশ্য ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি।
নিবন্ধে তার জীবনের শেষ মুহূর্তের বেদনাদায়ক অধ্যায়টিও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে। গত ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় বক্স কালভার্টের কাছে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি এবং ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র ৩২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে এক পুত্রসন্তানের জনক ওসমান হাদিকে তার মৃত্যুর পর জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
দেশের তরে আত্মোৎসর্গকারী বীরদের স্মৃতি যখন ইতিহাসের পাতায় অক্ষয় হয়ে রয় তখন তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে। শরীফ ওসমান হাদির এই জীবনকাহিনি কেবল একটি তথ্যচিত্র নয় বরং এটি এক অকুতোভয় তরুণের স্বপ্নের জয়গান যা আগামী দিনের সাহসী মানুষের মনে চিরকাল জাগ্রত থাকবে। আমরা এমন এক বাংলাদেশের প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি মেধাবী প্রাণ তার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে এবং কোনো অশুভ শক্তি যেন মানুষের কন্ঠরোধ করতে না পারে। অন্ধকার আর হাহাকার মুছে গিয়ে প্রতিটি জনপদ ফিরে পাক তার কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা ও মুক্তি এবং প্রতিটি শহীদের রক্তে লেখা হোক একটি সুন্দর ও শান্তিময় আগামীর গল্প।