ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিতদের সম্মানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিরলস সেবাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে এক যুগান্তকারী সম্মানি প্রদান কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার ১৪ মার্চ সকাল দশটায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমের সূচনা করেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তার মাধ্যমে এই মহতী উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে যা দেশের ধর্মীয় সেবকদের জন্য এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করল।
মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসান জানিয়েছেন যে এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় কেবল ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণই নন বরং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও নিয়মিত সম্মানি পাবেন। সরকারের পাইলট প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক দশ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে যেখানে ইমাম পাঁচ হাজার মুয়াজ্জিন তিন হাজার এবং খাদেম দুই হাজার টাকা করে সম্মানি পাবেন। একইভাবে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বজায় রেখে প্রতিটি মন্দির গির্জা ও বৌদ্ধ বিহারের জন্যও আট হাজার টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে যা সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রধান ও সহযোগীদের মাঝে সুনির্দিষ্ট হারে বণ্টন করা হবে।
সরকারি সূত্র মতে ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে এই ব্যক্তিদের অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিটি ধর্মের সেবকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে এবং তারা অধিকতর মানসিক স্থিরতার সাথে তাদের পবিত্র দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে এই ব্যক্তিদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এই ক্ষুদ্র সহায়তা তাদের সেবামূলক কাজে নতুন প্রেরণা জোগাবে।
মানবতার সেবায় নিবেদিত প্রাণ এই মানুষগুলোই হলো সমাজের আধ্যাত্মিক আলোকবর্তিকা যাদের ত্যাগের বিনিময়ে প্রতিটি জনপদে শান্তি ও শৃঙ্খলার বাতাবরণ তৈরি হয়। যখন রাষ্ট্র এমন নিঃস্বার্থ সেবকদের পাশে দাঁড়ায় তখন তা কেবল একটি আর্থিক সহায়তা থাকে না বরং এটি হয়ে ওঠে পরম মমতা ও শ্রদ্ধার এক অমলিন বন্ধন। আমরা এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে প্রতিটি ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সৌহার্দ্যের সাথে বসবাস করবে এবং প্রতিটি সেবকের কপালে জুটবে তার কর্মের যোগ্য সম্মান। অন্ধকারের সকল গ্লানি মুছে গিয়ে সম্প্রীতির এই আলো প্রতিটি ঘরে প্রশান্তি বয়ে আনুক এবং একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলুক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি।