তদবির নয় মেধার মূল্যায়নেই সমৃদ্ধ হবে আগামীর বাংলাদেশ: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে সরকার মেধার সর্বোচ্চ গুরুত্ব নিশ্চিত করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার ১৪ মার্চ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রাজধানী ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত ঠাকুরগাঁও জেলা সমিতির এক ইফতার মাহফিলে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে তদবির সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে প্রকৃত যোগ্যদের কাজের সুযোগ করে দেওয়াই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন যে বর্তমান সময়ে শিক্ষিত যুবকদের একটি বড় অংশ কেবল চাকরির পেছনে হন্যে হয়ে ঘুরছে যা অত্যন্ত হতাশাজনক। কেবল সরকারি চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে তরুণ প্রজন্মকে আত্মকর্মসংস্থানের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি ক্ষুদ্র বিনিয়োগ এবং সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়ে বলেন যে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে মেধা ও দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। দাপ্তরিক কাজে পোস্টিং বা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য তদবিরের যে পাহাড় জমে থাকে তা প্রশাসনিক গতিশীলতা নষ্ট করে উল্লেখ করে তিনি এসব অভ্যাস পরিহারের নির্দেশ দেন।
নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান যে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং চার লেনের সড়ক নির্মাণসহ অবকাঠামোগত ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে। তিনি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নত করার নিশ্চয়তা দেন। একই সাথে তিনি জেলা সমিতির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও অনৈক্যের সমালোচনা করে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার অনুরোধ জানান। মেধা ও ঐক্যই দেশকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
একটি জাতির মেরুদণ্ড হলো তার মেধাবী তরুণ সমাজ আর সেই মেধাকে যখন অবহেলার কুয়াশা ঢেকে দেয় তখন থমকে যায় প্রগতির চাকা। তদবির আর অন্যায়ের কালো ছায়া সরিয়ে যোগ্যতার আলোয় যখন প্রতিটি কর্মস্থল আলোকিত হবে তখন সাধারণ মানুষের মনে ফিরে আসবে হারানো আস্থা। আমরা এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে প্রতিটি ললাটে যোগ্যতার তিলক আঁকা থাকবে এবং কোনো মেধাবী প্রাণ যেন সুযোগের অভাবে ঝরে না পড়ে। বৈষম্যের দেয়াল ভেঙে একদিন সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এবং প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাবে ন্যায়ের চিরন্তন বার্তা। সাহসের সাথে সত্যের জয়গান গেয়ে এভাবেই আমরা গড়ে তুলব এক শান্তিময় ও সাম্যের বাংলাদেশ।