সংকটকালেও আমিরাতের সঙ্গে বন্ধুত্ব অটুট: ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্তা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় রয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। শনিবার ১৪ মার্চ এক বিশেষ বিবৃতিতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় যে বর্তমান সংকটকালীন সময়ে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের শক্ত ভিত্তিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষ করে আমিরাতে অবস্থানরত ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমিরাত সরকার যে আন্তরিক সহযোগিতা প্রদান করেছে তার জন্য আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ জানিয়েছে তেল আবিব।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কেবল শান্তিকালীন সময়ের জন্য নয় বরং যে কোনো কঠিন ও প্রতিকূল সময়েও এই বন্ধন অটুট থাকবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় আমিরাতে ভ্রমণ ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। তা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যকার এই মিত্রতা ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীল রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান সরাসরি সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইরান বড় ধরনের কৌশলগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে যা যুদ্ধের ময়দানে ইসরায়েলের অবস্থানকে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে। নেতানিয়াহুর মতে বর্তমান পরিস্থিতির পর ইরান আর আগের অবস্থানে নেই। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ইসরায়েলের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী এই যুদ্ধ পরিস্থিতিকে নিজের অনুকূলে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন।
বারুদের ধোঁয়া আর কামানের গর্জনে যখন বিশ্ব রাজনীতি উত্তাল হয়ে ওঠে তখন প্রতিটি কূটনৈতিক চাল হয়ে ওঠে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এক দেশের নিরাপত্তা যখন অন্য দেশের বন্ধুত্বের ওপর নির্ভর করে তখন সাধারণ মানুষের শান্তি ও সহাবস্থানের আকাঙ্ক্ষা আরও বেশি জোরালো হয়ে ওঠে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে শক্তির আস্ফালন নয় বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আলোচনার মাধ্যমে প্রতিটি সংঘাতের অবসান হবে। অন্ধকার আর অবিশ্বাসের কালো মেঘ কেটে গিয়ে একদিন সত্য ও ন্যায়ের সূর্য উদিত হবে এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাবে তার হারানো নিরাপত্তা ও অনাবিল সুখ। সাহসের সাথে বাস্তবতাকে মোকাবিলা করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক শান্তিময় ও সমৃদ্ধ পৃথিবী।