পহেলা বৈশাখ থেকে চালু হচ্ছে কৃষক কার্ড: স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর
দেশের কৃষি ও কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হিসেবে আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ড চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬ সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ধর্মীয় সেবকদের সম্মানি কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে পহেলা বৈশাখ বা ১৪ এপ্রিল থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে যা কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। একই সাথে তিনি জানান যে আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচিরও আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান যে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা নারীদের সহায়তায় ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে যার সুবিধা পর্যায়ক্রমে ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন যে জনগণের রায়ে সরকার গঠনের পর প্রতিটি অঙ্গীকার ক্রমান্বয়ে পূরণ করা হচ্ছে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেন তিনি।
নাগরিকদের স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন যে নাগরিকদের দুর্বল রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। তিনি মনে করিয়ে দেন যে রাষ্ট্রের যেমন দায়বদ্ধতা আছে তেমনি নাগরিকদেরও সমাজের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও আর্থিক নিরাপত্তা তৈরির মাধ্যমেই একটি শান্তিময় ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
মাটির বুক চিরে ফসল ফলানো যে কৃষকের শ্রমে গড়ে ওঠে সভ্যতার ভিত্তি সেই শ্রমিকের ললাটে যখন রাষ্ট্র স্বীকৃতির তিলক পরিয়ে দেয় তখন তা হয়ে ওঠে এক অনন্য অর্জনের গল্প। কৃষকের ঘামে ভেজা প্রতিটি শস্যকণা আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণতার স্বপ্নকে আরও মজবুত করে এবং আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ প্রশস্ত করে। আমরা এমন এক ভোরের প্রতীক্ষায় আছি যেখানে প্রতিটি মেহনতি মানুষের শ্রমে গড়ে উঠবে এক বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ। অন্ধকারের প্রতিটি দেয়াল ভেঙে একদিন আলোর পথে এগিয়ে যাবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এবং প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাবে শান্তির চিরন্তন বার্তা। সাহসের সাথে বাস্তবতাকে জয় করেই আমরা গড়ে তুলব এক গর্বিত ও শক্তিশালী বাংলাদেশ।