ইরানের কুর্দিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা: প্রাণহানি বেড়ে ১১২
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সংঘাতের মাত্রা তীব্রতর করে ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় অন্তত ১১২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার ১৪ মার্চ প্রকাশিত ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের এক প্রতিবেদন থেকে এই ভয়াবহ প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কুর্দিস্তান প্রাদেশিক জরুরি বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন যে এই হামলায় নিহতের পাশাপাশি অন্তত ৯৬৯ জন আহত হয়েছেন যা ওই অঞ্চলের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক চরম বিপর্যয় তৈরি করেছে। বর্তমানে ২৭ জন সাধারণ ওয়ার্ডে এবং ৫ জন নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। কেবল ইরান নয় বরং লেবাননের সীমান্ত এলাকাগুলোতেও ইসরায়েলি বাহিনী তাদের আক্রমণের পরিধি বাড়িয়ে চলেছে। দক্ষিণ লেবাননের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১২ জন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলেছে। সব মিলিয়ে লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে এখন ৭৭৩ জনে পৌঁছেছে যার মধ্যে ১০৩ জনই নিষ্পাপ শিশু।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আবাসিক এলাকা ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইনের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন অনেকে। পাল্টা হামলার আশঙ্কায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে। ত্রাণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে ক্রমাগত বোমা হামলার কারণে দুর্গত এলাকায় জীবনদায়ী ওষুধ ও খাদ্য সহায়তা পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলছে।
বারুদের ধোঁয়া আর স্বজন হারানো মানুষের হাহাকারে যখন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে তখন মানবতার পরাজয় ঘটে চরমভাবে। যে শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকার কথা ছিল জনপদ সেখানে এখন কেবল ধ্বংসস্তূপ আর মৃত্যুর মিছিল আমাদের ব্যথিত করে। আমরা এমন এক বিশ্বের প্রত্যাশা করি যেখানে শক্তির উন্মাদনা নয় বরং প্রতিটি শিশুর জন্য থাকবে একটি নিরাপদ আশ্রয় এবং প্রতিটি চিকিৎসকের জন্য থাকবে তার কর্মস্থলের সুরক্ষা। অন্ধকারের এই পাশবিকতা মুছে গিয়ে একদিন ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাবে তার হারানো নিরাপত্তা ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি। সাহসের সাথে এই নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে মোকাবিলা করেই আমাদের লড়াই করতে হবে এক শান্তিময় ও মানবিক পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে।