নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএমপির মানি এস্কর্ট সার্ভিস
ঢাকা মহানগরীতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিরাপদে স্থানান্তরের জন্য বিশেষ 'মানি এস্কর্ট সার্ভিস' চালু রেখেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীজুড়ে মূল্যবান সামগ্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে ছিনতাই বা ডাকাতির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি এড়াতে ডিএমপির পক্ষ থেকে এই বিশেষ নিরাপত্তা সেবা গ্রহণের জন্য নগরবাসীকে আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার ১৫ মার্চ ডিএমপি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আর্থিক সংস্থার পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়েও যে কেউ এই বিশেষ সুরক্ষা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
ডিএমপি জানায় যে অনেক সময় বড় অংকের নগদ টাকা বা দামী অলংকার পরিবহনের সময় অপরাধী চক্রের নজরে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। এই সেবার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবহনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নগরে অপরাধের হার কমিয়ে আনা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন যে নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য এবং বড় অংকের লেনদেনের ক্ষেত্রে এই সেবা গ্রহণ করা সবার জন্যই মঙ্গলজনক।
ডিএমপির এই মানি এস্কর্ট সার্ভিস নিতে আগ্রহী নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট কিছু নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেবা প্রত্যাশীরা সরাসরি ০১৩২০-০৩৭৮৪৫ এবং ০১৩২০-০৩৭৮৪৬ নম্বরে কল করে পুলিশের সহায়তা নিতে পারবেন। ডিএমপি আরও নিশ্চিত করেছে যে এই সেবা গ্রহণের মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে যেমন স্বস্তি ফিরবে তেমনি অপরাধীদের কার্যক্রম দমন করাও পুলিশের জন্য সহজতর হবে। জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের এই অগ্রণী ভূমিকা রাজধানীর ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত লেনদেনকে আরও গতিশীল ও নির্ভয় করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ নগরী গড়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। যখন রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষ একে অপরের পরিপূরক হয়ে কাজ করে তখন প্রতিটি অলিগলি হয়ে ওঠে নিরাপদ এবং মানুষের মনে ফিরে আসে প্রশান্তি। আমরা এমন এক ঢাকার স্বপ্ন দেখি যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার কষ্টের অর্জিত সম্পদ নিয়ে নির্ভাবনায় পথ চলতে পারবে। অন্ধকারের সকল অশুভ শক্তিকে রুখে দিয়ে ন্যায়ের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি জনপদ এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার হারানো নিরাপত্তা ও অনাবিল সুখ। সাহসের সাথে বাস্তবতাকে জয় করেই আমরা গড়ে তুলব এক শান্তিময় ও সমৃদ্ধ মহানগরী।