জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ১৬ জাহাজের ভিড়: বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে স্বস্তির আভাস
দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প কারখানার চাকা সচল রাখতে পরিশোধিত জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে ১৬টি বিশাল জাহাজ। গত ৩ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই জাহাজগুলো বন্দরে নোঙর করেছে যা জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইতোমধ্যে ১১টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে ৫টি জাহাজ থেকে দ্রুততার সাথে পণ্য নামানোর কাজ চলছে। এছাড়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও তিনটি জ্বালানিবাহী জাহাজ বন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মার্চের প্রথম দশ দিনেই কাতার থেকে আসা তিনটি এলএনজিবাহী জাহাজ আল জুর আল জাসাসিয়া ও লুসাইল প্রায় ৬২ হাজার টন করে এলএনজি খালাস করেছে। গত ১২ মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছানো আল গালায়েল জাহাজ থেকে ২৬ হাজার ১৬৫ টন এলএনজি বর্তমানে ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে স্থানান্তরের কাজ চলছে। এছাড়া এই সময়ে এলপিজিবাহী জাহাজের আনাগোনা ছিল সবচেয়ে বেশি। মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে আসা জাহাজগুলো ইতোমধ্যে ১৯ হাজার ৩১৬ টন এলপিজি খালাস করেছে এবং বাকি ট্যাংকারগুলোর কাজ মার্চের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এলএনজি ও এলপিজির পাশাপাশি শিল্প খাতের অন্যতম কাঁচামাল ফার্নেস অয়েল গ্যাস অয়েল ডিজেল ও বেজ অয়েলও বন্দরে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি এবং ৪ হাজার টন বেজ অয়েল দেশে এসেছে যা বর্তমান চাহিদার বিপরীতে একটি বড় যোগান। যদিও সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচল ও বিমা খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে তবে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে জাহাজ আসা স্বাভাবিক রয়েছে।
বিশাল এই জলযানগুলো যখন আমাদের বন্দরে নোঙর করে তখন তা কেবল জ্বালানি নয় বরং কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসে। একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো তার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদন আর এই বিশাল যোগান সেই অগ্রযাত্রাকেই আরও বেগবান করবে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে স্বনির্ভরতার প্রতিটি ধাপে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি থাকবে সুরক্ষিত এবং প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাবে উন্নয়নের সুফল। অন্ধকারের সকল শঙ্কা মুছে গিয়ে আগামীর প্রতিটি দিন যেন কর্মমুখর ও উজ্জ্বল থাকে এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পায় তার হারানো সমৃদ্ধি ও অনাবিল নিরাপত্তা। সাহসের সাথে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক শক্তিশালী ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ।