সলসবারি বাংলাদেশি ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউকের ঈদ সামগ্রী বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়
পবিত্র রমজান মাস এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যুক্তরাজ্যের সলসবারি বাংলাদেশি ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন ইউকের পক্ষ থেকে মুসলিম উম্মাহকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। রবিবার ১৫ মার্চ দুপুরে সিলেটের জৈন্তাপুরের হরিপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এক উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই শুভেচ্ছা বিনিময় ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সংগঠনের চেয়ারম্যান তহুর আলী প্রবাস থেকে পাঠানো এক বার্তায় সকলকে ঈদের মোবারকবাদ জানান এবং আর্তমানবতার সেবায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে এবারের ঈদে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে 'ইদ স্মাইল হেল্পিং হ্যান্ডস' প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এই মহতী উদ্যোগকে সফল করতে যারা আর্থিক ও কায়িক শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলের জন্য বিশেষ দোয়া ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহেদ আহমেদ কোষাধ্যক্ষ জিয়াউর রহমান এবং সহ-সভাপতি মাসুক উল্লাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ভবিষ্যতে এই ধরনের কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখায় শামীম আহমেদ ও তার সহযোগীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়। বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর মডেল থানার এ এস আই লিটনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফারুক আহমেদ তরিকুল ইসলাম সুবেদ মাহমুদ সাংবাদিক মোরাদ আহমদ ও হেলাল আহমদ । প্রবাসে থেকেও দেশের শেকড় আর সাধারণ মানুষের প্রতি এই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ স্থানীয় মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে সামাজিক এই ভ্রাতৃত্ববোধ আগামী দিনগুলোতে জৈন্তাপুরের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
পরবাসের যান্ত্রিক জীবনের মাঝেও যারা হৃদয়ে স্বদেশ আর স্বজনের মায়া বয়ে বেড়ান তাদের এই ত্যাগ ও ভালোবাসা এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সীমানা পেরিয়ে সাহায্যের এই হাত যখন নিজ গ্রামের কোনো অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটায় তখন তা হয়ে ওঠে মানবতার শ্রেষ্ঠ উৎসব। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষ তার সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াবে। অবিশ্বাসের কালো মেঘ কেটে গিয়ে একদিন সম্প্রীতির আলোয় আলোকিত হবে প্রতিটি জনপদ এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাবে তার হারানো স্বস্তি ও অনাবিল আনন্দ। সাহসের সাথে সুন্দরকে ধারণ করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক শান্তিময় ও সমৃদ্ধ সমাজ।