সততা ও সুশাসনের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে সুন্দর বাংলাদেশ: কৃষিমন্ত্রী
দেশের মানুষের দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের ফসল হিসেবে প্রাপ্ত পরিবর্তনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সুশাসিত ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন খাদ্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। শনিবার ১৪ মার্চ কুমিল্লা নগরীর টুলিপাড়া ফান টাউনে মানবিক সংগঠন ‘বিবেক’-এর ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক এবং তারা সমাজে আর কোনো অন্যায় দেখতে চায় না।
কৃষিমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন যে প্রতিটি নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে সততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি মনে করেন বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ সৎ ও দক্ষ নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে আর সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কুমিল্লার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন যে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরেই অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে এই জেলা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই কুমিল্লাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সৎ ও মেধাবী প্রশাসকের কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন যে তার মতো মানবিক মানুষের কুমিল্লার মাটিতে জন্ম হওয়া গর্বের বিষয়। বিশেষ করে করোনা মহামারির চরম সংকটের সময় যখন মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়াতে ভয় পাচ্ছিল তখন ইউসুফ মোল্লা টিপু ও তার সংগঠন ‘বিবেক’ জীবন বাজি রেখে মানুষের সেবা করেছে। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে জানাজা দাফন ও সৎকারের মতো মানবিক দায়িত্ব পালন করে তারা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা অতুলনীয়। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতেও কুমিল্লায় এমন সৎ ও মানবিক নেতৃত্বের ধারা অব্যাহত থাকবে।
ইফতার মাহফিলে কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে কেবল প্রশাসনিক দক্ষতা নয় বরং নৈতিকতা ও মানুষের প্রতি মমত্ববোধই পারে একটি সমাজকে আমূল বদলে দিতে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি জনপদ সুশাসিত হবে এবং প্রতিটি নাগরিক তার ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা ফিরে পাবে। অন্ধকারের সকল অন্যায় মুছে গিয়ে সততার আলোয় আলোকিত হোক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এবং প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাক শান্তির সুবাতাস। সাহসের সাথে বাস্তবতাকে মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এক সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে।