তসবিহ হাতে ইবাদতরত অবস্থায় ইন্তেকাল করলেন ইতিকাফে থাকা মুসল্লি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পবিত্র মাহে রমজানের ইবাদতে মগ্ন থাকা অবস্থায় এক মুসল্লির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শনিবার ১৪ মার্চ দুপুরে আল জামেয়াতুল ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর মাদ্রাসা জামে মসজিদে ইতিকাফে থাকা অবস্থায় হারুনুর রশীদ চৌধুরী (৫৫) নামে ওই ব্যক্তি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত হারুনুর রশীদ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুরে মসজিদে বয়ান চলাকালীন সময়ে হারুনুর রশীদ চৌধুরী হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান। মাদরাসার দায়িত্বশীল শেখ এমদাদ উল্লাহ জানান, তিনি কাছে গিয়ে দেখেন ওই মুসল্লি হেলান দেওয়া অবস্থা থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন। এসময় তার হাতে তসবিহ ছিল এবং তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মসজিদে থাকা অন্য মুসল্লিরা জানান, তিনি পুরো ৩০ দিনের জন্য ইতিকাফে বসেছিলেন এবং সারাক্ষণ জিকির-আসকার ও তসবিহ পাঠে মগ্ন থাকতেন।
স্থানীয় আলেম ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এই মৃত্যুকে এক অনন্য সৌভাগ্যের নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, রমজানের পবিত্র মাসে ইবাদতেরত অবস্থায় এবং মহান আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা মুমিনের জন্য বিশেষ রহমতের লক্ষণ। ইসলামী দর্শনে এমন প্রয়াণকে জান্নাতের সুসংবাদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এলেও পরহেজগার এই মানুষের প্রয়াণ দেখে অনেক মুসল্লি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
জীবনের শেষ মুহূর্তটি যখন পরম করুণাময় আল্লাহর ধ্যানে বিলীন হয়ে যায়, তখন তা হয়ে ওঠে এক মহিমান্বিত বিসর্জন। তসবিহ হাতে ইবাদতের আঙিনায় চিরবিদায় নেওয়ার এই দৃশ্য প্রতিটি বিশ্বাসী হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে এবং মানুষকে পরকালের প্রস্তুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আমরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করেন এবং তার পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সইবার শক্তি দেন। অন্ধকারের সকল গ্লানি মুছে গিয়ে প্রতিটি মুমিনের শেষ পরিণাম যেন এমন সুন্দর ও পবিত্র হয়, এই কামনাই রইল।