বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট: তদারকি জোরদারের দাবি ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ
রাজধানীর খুচরা বাজারে ভোজ্যতেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাজার সংশ্লিষ্ট ও ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব (CAB) দাবি করেছে, বাজারে তেলের এই সংকট মূলত কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে। সরেজমিনে শনিবার ১১ মার্চ রাজধানীর সূত্রাপুর, শ্যামবাজার, নয়াবাজার ও রায়সাহেব বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল উধাও। কোথাও কোথাও এক বা দুই লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মিল মালিক ও ডিলাররা সিন্ডিকেট করে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। সূত্রাপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. ফারুক হোসেন জানান, টাকা দিয়ে বসে থাকলেও মিল থেকে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং ডলার সংকটের কারণে এলসি খুলতে দেরি হওয়াকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন আমদানিকারকরা। অনেক ক্ষেত্রে বেশি দামে তেল বিক্রি করা হলেও মেমো বা চালানে নির্ধারিত দামই দেখানো হচ্ছে, যা স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ডিলাররা ফোন ধরছেন না অথবা স্টকে মাল নেই বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন, যার ফলে খুচরা বিক্রেতারা বাধ্য হয়ে মৌলভীবাজারের মতো আড়ত থেকে বাড়তি দামে তেল সংগ্রহ করছেন।
তবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই সংকটের কথা অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে, দেশে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তিনি বলেন, আমদানিকারক ও রিফাইনারি মালিকদের তথ্য অনুযায়ী তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং দাম এক ফোঁটাও বাড়বে না। মন্ত্রী সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাজারে তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালাবে যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা নিতে না পারে।
চিনির পর ভোজ্যতেলের বাজারে এই অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। আমদানি নির্ভরতার সুযোগ নিয়ে অসাধু সিন্ডিকেট যখন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের থালায় টান দেয়, তখন তা কেবল অর্থনৈতিক নয় বরং মানবিক সংকটেও রূপ নেয়। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে বাজারের প্রতিটি নিত্যপণ্যের সরবরাহ থাকবে স্বাভাবিক এবং সিন্ডিকেটের কালো ছায়া থেকে মুক্ত থাকবে সাধারণ মানুষ। অন্ধকারের এই কৃত্রিম সংকট মুছে গিয়ে সুশাসনের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাক ন্যায্যমূল্যের পণ্য। সাহসের সাথে এই অসাধুচক্রকে রুখে দিয়েই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক শান্তিময় ও সুশাসিত বাজার ব্যবস্থা।