মুজতবা খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ, দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন: ইরান
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের ছড়িয়ে পড়া জল্পনা ও দাবি নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার ১৪ মার্চ ‘এমএস নাউ’ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নতুন সর্বোচ্চ নেতার শারীরিকভাবে ‘কোনো সমস্যা নেই’ এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। এই বিবৃতির মাধ্যমে ইরান মূলত মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসা অসুস্থতা বা আঘাতপ্রাপ্তির দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিল।
সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক বক্তব্যে দাবি করেছিলেন যে, মুজতবা খামেনি সম্ভবত কোনো হামলায় আহত হয়েছেন এবং তার অঙ্গহানি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন এই দাবির কড়া সমালোচনা করে আরাগচি বলেন, “নতুন সর্বোচ্চ নেতার কোনো সমস্যা নেই। তিনি গতকালই জাতির উদ্দেশ্যে তার বার্তা দিয়েছেন এবং তিনি স্বাভাবিকভাবেই নিজের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে যাবেন।” ইরানের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম ভাষণে মুজতবা খামেনি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রাখার স্পষ্ট আভাস দিয়েছেন, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এছাড়া তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখে, তবে ইরানও নতুন নতুন রণক্ষেত্র বা ‘ফ্রন্ট’ খুলে দিয়ে পাল্টা জবাব দেবে। তার এই বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
বারুদের ধোঁয়া আর পাল্টাপাল্টি দাবির মাঝে যখন কোনো নেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়, তখন তা কেবল রাজনৈতিক নয় বরং কৌশলগত যুদ্ধের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। একপক্ষ যখন দুর্বলতা খোঁজে, অন্যপক্ষ তখন সাহসের সাথে নিজেদের সংহতি প্রকাশ করে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে গুজবের চেয়ে সত্য শক্তিশালী হবে এবং যুদ্ধের দামামা ছাপিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। অন্ধকারের এই বৈরিতা মুছে গিয়ে প্রতিটি রাষ্ট্র ও তার নেতৃত্ব যেন স্থিতিশীল থাকে এবং সাধারণ মানুষ ফিরে পায় তাদের হারানো নিরাপত্তা। সাহসের সাথে বাস্তবতাকে মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এক শান্তিময় ও সংঘাতমুক্ত পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে।