ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফেরাতে সদরঘাটে নতুন তিন জাহাজ উদ্বোধন ও ফ্রি ট্রলি সেবা চালু
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নৌ-ভ্রমণ আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ করতে হাতিয়া ও ভোলাগামী নতুন তিনটি বিলাসবহুল জাহাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার ১৬ মার্চ বিকেলে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বিআইডব্লিউটিসি-এর এই নতুন নৌযানগুলোর শুভ উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ঢাকা থেকে হাতিয়া নৌপথে ‘রূপসা’ ও ‘সুগন্ধা’ এবং ঢাকা-বেতুয়া (ভোলা) নৌপথে ‘মধুমতি’ জাহাজটি নিয়মিত চলাচল করবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি ও হাবিবুর রশিদ এমপি, নৌপরিবহন সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, এনডিসি এবং সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। জাহাজ উদ্বোধনের পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ আনা-নেওয়া এবং অসুস্থ বা বয়স্কদের চলাচলের সুবিধার জন্য প্রথমবারের মতো সদরঘাটে বিনামূল্যে হুইলচেয়ার ও ট্রলি সেবার শুভ উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিনামূল্যের এই সেবার নামে যাত্রীদের কাছ থেকে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা বকশিস নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈদযাত্রাকে আরও সাশ্রয়ী করতে এক বিশেষ ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী জানান যে, ঈদ ঘিরে মোট সাত দিনের জন্য ঘাটের ইজারা মূল্য (প্রবেশ ফি বা চার্জ) সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এই ব্যয়ের ভার সরকার নিজেই বহন করবে যাতে সাধারণ যাত্রীদের ওপর কোনো অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। মালামাল নিয়ে হয়রানি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করার পাশাপাশি তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, ঈদের মৌসুমে লঞ্চ বা অন্য কোনো পরিবহনে জ্বালানি তেলের সংকটের বিন্দুমাত্র কোনো আশঙ্কা নেই।
একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ঈদযাত্রা যখন মানুষের স্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়, তখন সরকারের এমন পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের আস্থাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ঘাটে ঘাটে হয়রানি আর অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা কাঁধ থেকে নেমে গেলে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার আনন্দ বহুগুণ বেড়ে যায়। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি ভ্রমণ হবে নিরাপদ এবং প্রতিটি মানুষ কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই তার প্রিয়জনের কাছে পৌঁছাতে পারবে। অন্ধকারের সকল অনিয়ম আর চাঁদাবাজি মুছে গিয়ে দেশের প্রতিটি নদীবন্দর হয়ে উঠুক যাত্রীসেবার আদর্শ কেন্দ্র। সাহসের সাথে শৃঙ্খলা বজায় রেখেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক নিরাপদ ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা।