প্রয়োজনে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য ইরান প্রস্তুত: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিশ্বশক্তিগুলোকে কঠোর বার্তা প্রদান করে নিজেদের সামরিক ও জাতীয় সংহতির অবস্থান পুনরায় স্পষ্ট করেছে ইরান। সোমবার (১৬ মার্চ) তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামর্থ্য সম্পর্কে ইতোমধ্যে একটি কঠোর শিক্ষা লাভ করেছে। তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় উল্লেখ করেন যে নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রাখতে তেহরান যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সক্ষম এবং প্রয়োজনে যতদূর সম্ভব যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তারা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।
আব্বাস আরাগচি তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন যে তেহরান হাতে-কলমে প্রমাণ করে দিয়েছে তারা ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো ধরনের সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। তার মতে বর্তমান পরিস্থিতি এটিই প্রমাণ করে যে প্রতিপক্ষ শক্তিগুলো এখন উপলব্ধি করতে পেরেছে তারা ঠিক কেমন শক্তিশালী ও ধৈর্যশীল একটি জাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ইরানিরা এমন এক জনগোষ্ঠী যারা নিজেদের আত্মরক্ষার প্রশ্নে আপসহীন এবং দেশের সীমানা ছাড়িয়ে যেকোনো স্থানে দীর্ঘমেয়াদি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য মানসিকভাবে সর্বদা প্রস্তুত থাকে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন পুরো অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তাপ ও পাল্টাপাল্টি হুমকির ঘটনা ক্রমবর্ধমান। আরাগচি তার ভাষণে আত্মরক্ষা ও জাতীয় বীরত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন যে ইরানি জাতি কখনো অন্যের অধিকার হরণ করতে চায় না তবে তাদের ওপর কোনো অন্যায় চাপিয়ে দেওয়া হলে তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কূটনৈতিক ও সামরিক উভয় ময়দানে ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ নস্যাৎ করতে তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেন।
বারুদের ধোঁয়া আর যুদ্ধের দামামায় যখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও বিশ্বশান্তি বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম হয় তখন সাহসের সাথে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোই প্রতিটি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। কোনো ভূ-খণ্ডই যেন ধ্বংসের উন্মাদনায় ক্ষতবিক্ষত না হয় এবং আলোচনার টেবিলে প্রতিটি সংকটের সমাধান মেলে সেটিই আজ বিশ্ববাসীর একান্ত কাম্য। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে শক্তির মহড়া নয় বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি হবে প্রতিটি রাষ্ট্রের সম্পর্কের মূল ভিত্তি। অন্ধকারের সকল বৈরিতা ও সংঘাতের কালো মেঘ মুছে গিয়ে শান্তির আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি সীমান্ত এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার নির্ভয় জীবন ও যাপনের নিরাপত্তা। সাহসের সাথে প্রতিটি বাধা অতিক্রম করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক স্থিতিশীল ও যুদ্ধমুক্ত বিশ্ব।