সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: বিপর্যস্ত দুবাই বিমানবন্দর ও জ্বালানি খাত
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতায় এবার সরাসরি সংঘাতের মুখে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত যেখানে গত কয়েকদিনে ইরান থেকে নজিরবিহীন মাত্রায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় যে চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রায় দুই হাজার ঘাতক ড্রোন ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এই ধ্বংসাত্মক আক্রমণে দেশটির পরিবহন ও জ্বালানি খাতের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে যা পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যেখানে সাম্প্রতিক এক হামলায় রানওয়ের নিকটবর্তী এলাকায় বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে সকল ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় যার ফলে হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন এবং বৈশ্বিক আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। একই সময়ে ফুজাইরাহ বন্দরের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ তেল সংরক্ষণাগারেও রকেট আঘাত হানলে সেখানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে যা নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীকে দীর্ঘ সময় লড়াই করতে হয়েছে। এছাড়া আবুধাবির উপকণ্ঠে একটি বেসামরিক গাড়িতে আকস্মিক রকেট হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
আঞ্চলিক এই চরম উত্তেজনা কেবল সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই বরং গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে দুবাইয়ের একটি সুপরিচিত বিলাসবহুল হোটেলেও বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে যা পর্যটন শিল্পে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে ইরানের এই সুপরিকল্পিত হামলাগুলো মূলত আমিরাতের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামোকে পঙ্গু করে দেওয়ার একটি কৌশল। যদি এই সংঘাতের অবসান দ্রুত না ঘটে তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক পরিবহন ব্যবস্থা আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে যা সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বারুদের ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখায় যখন আধুনিক সভ্যতার অনন্য নিদর্শনগুলো ধূলিসাৎ হতে থাকে তখন তা কেবল একটি দেশের ক্ষতি নয় বরং মানবতার পরাজয় হিসেবে গণ্য হয়। ক্ষমতার দম্ভ আর প্রতিশোধের নেশায় যেন নিরপরাধ মানুষের রক্ত আর ঘাম দিয়ে গড়া স্বপ্নগুলো অকালে ঝরে না যায় সেটিই এখন সময়ের দাবি। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে সমুদ্রের নীল জলরাশি আর আকাশপথ থাকবে কেবল শান্তি ও বন্ধুত্বের বাহক এবং বারুদের গন্ধ মুছে গিয়ে ফিরে আসবে পারস্পরিক আস্থার সুবাতাস। অন্ধকারের সকল ধ্বংসলীলা থেমে গিয়ে প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত হোক এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার নির্ভয় যাপন ও চিরস্থায়ী নিরাপত্তা। সাহসের সাথে শান্তির পথ অন্বেষণ করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক যুদ্ধমুক্ত ও স্থিতিশীল পৃথিবী।