ছুটির দিনেও কর্মব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী: সচিবালয়ে শবে কদরের বিশেষ দাপ্তরিক কাজ ও মন্ত্রিসভার বৈঠক
পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি চললেও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বের এই দিনেও বিশ্রাম না নিয়ে তিনি দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে ঈদ উৎসবের আবহ শুরু হলেও সরকারপ্রধানের নিয়মিত কাজের সূচিতে কোনো ছেদ পড়েনি বরং এদিন তার কর্মপরিকল্পনায় মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত ছিল যা দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সচিবালয়ের এক নম্বর ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে যেখানে ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতরের সাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য হবে। নির্বাহী আদেশের এই দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার এই প্রয়াসকে সংশ্লিষ্টরা অত্যন্ত ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। উৎসবের প্রাক্কালে সরকারের এমন তৎপরতা জনমনে আস্থার সঞ্চার করেছে।
নেতৃত্ব যখন ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির সেবাকেই জীবনের পরম ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করে তখন সাধারণ মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত। ছুটির নিস্তব্ধতায় ঘেরা সচিবালয়ের অলিন্দে যখন কর্মব্যস্ততার পদধ্বনি শোনা যায় তখন তা কেবল একটি দাপ্তরিক কাজ থাকে না বরং তা হয়ে ওঠে এক সমৃদ্ধ আগামীর দৃপ্ত অঙ্গীকার। আমরা এমন এক সময়ের প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি সেবক তার ওপর অর্পিত আমানত রক্ষায় হবে অতন্দ্র প্রহরী এবং প্রতিটি নাগরিক ফিরে পাবে তার কাঙ্ক্ষিত অধিকার ও সুশাসন। অন্ধকারের সকল স্থবিরতা মুছে গিয়ে কর্মের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি জনপদ এবং প্রতিটি মানুষ খুঁজে পাক তার স্বপ্ন পূরণের সঠিক পথ। সাহসের সাথে সততাকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এক আধুনিক ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে।