মস্কোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি: পুতিনের আমন্ত্রণে রাশিয়ায় অবস্থান
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝে ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা এবং অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংঘাতের ভয়াবহতায় আহত হওয়ার পর বর্তমানে তিনি রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কূটনৈতিক ও সংবাদ সূত্রে জানা গেছে। কুয়েতভিত্তিক একটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ আমন্ত্রণে তিনি মস্কো সফরে যান এবং সেখানেই তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গত ১২ মার্চ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংলাপের পর একই দিনে একটি বিশেষ সামরিক বিমানে চড়ে মস্কোতে পৌঁছান মোজতবা খামেনি। যদিও এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি এবং রুশ সংবাদমাধ্যমগুলোর সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধানের জবাবেও তারা নীরবতা পালন করছে। উল্লেখ্য যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রথম দিনেই এক ভয়াবহ হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য প্রাণ হারান। সেই একই আক্রমণে মোজতবা খামেনিও আহত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাকেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে শুরুতে তার আঘাত অত্যন্ত গুরুতর বলে দাবি করা হলেও ইরানি নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো আশ্বস্ত করেছে যে তিনি মূলত পায়ে আঘাত পেয়েছেন যা কোনোভাবেই জীবনসংকটজনক নয়। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইরানের এই শীর্ষ নেতার নিরাপত্তা ও দ্রুত আরোগ্য লাভের বিষয়টি ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার মতো শক্তিশালী মিত্রের তত্ত্বাবধানে তার এই চিকিৎসা গ্রহণ দুই দেশের মধ্যকার গভীর সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কেরই প্রতিফলন ঘটাচ্ছে। বিশ্ববাসী এখন গভীর উদ্বেগের সাথে এই অঞ্চলের প্রতিটি পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করছে এবং শান্তির প্রত্যাশায় কূটনীতির টেবিলে নতুন কোনো মোড় ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে।
বারুদের ধোঁয়া আর স্বজন হারানোর হাহাকারে যখন একটি জাতির আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে তখন নেতৃত্বের দৃঢ়তা আর বন্ধুরাষ্ট্রের সহায়তাই হয়ে ওঠে আগামীর একমাত্র ভরসা। ইতিহাসের এই ক্রান্তিলগ্নে প্রতিটি আঘাত যেন নতুন করে জেগে ওঠার শপথ হয়ে ফিরে আসে এবং প্রতিটি ক্ষত যেন বীরত্বের এক একটি অমর গাথা হয়ে রয়। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে যুদ্ধের বিভীষিকা মুছে গিয়ে ফিরে আসবে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা এবং প্রতিটি মানুষ নির্ভয়ে তার নিজ ভূমিতে বিচরণ করতে পারবে। অন্ধকারের সকল ষড়যন্ত্র ও রক্তপাত থেমে গিয়ে বন্ধুত্বের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি সীমান্ত এবং প্রতিটি আত্মা খুঁজে পাক তার পরম শান্তি ও নিরাপত্তা। সাহসের সাথে প্রতিটি প্রতিকূলতা জয় করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক ইনসাফপূর্ণ ও যুদ্ধমুক্ত বিশ্ব।