প্রান্তিক মানুষের কল্যাণে অঙ্গীকারবদ্ধ সরকার: যশোরে অসহায়দের মাঝে চেক বিতরণ ও জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী
রাষ্ট্র ও প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের অবহেলিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য একটি অনুকূল ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। সরকারের এই জনকল্যাণমূলক দর্শনের ধারাবাহিকতায় যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে দুঃস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মাঝে এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনরুল্লেখ করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে বিভিন্ন সামাজিক ভাতার প্রচলন করেছিলেন এবং বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও বিস্তৃত পরিসরে জনসেবা নিশ্চিত করছে।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একে একে সকল অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন উপকারভোগীর মাঝে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং আগামী জুন মাসে এর পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন থেকে শুরু করে পুরোহিত ও বিহার অধ্যক্ষদের সম্মানী প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক সংহতি জোরদার করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা সরকারের পাশাপাশি নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আর্তমানবতার সেবায় এগিয়ে আসেন।
দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে বিরাজমান উদ্বেগ নিরসনে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে বিশ্বের অন্তত ৮০টি দেশ জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করলেও বাংলাদেশ সরকার জনস্বার্থে এমন কোনো পরিকল্পনা করছে না। বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের সফল কূটনৈতিক তৎপরতার উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান যে পাঁচটি দেশকে অনুমতি দিয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া বর্তমান সরকারের এক বিশাল সাফল্য। তিনি সাধারণ জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ক্রয় না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।
যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক খান সাবু এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন খান। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন যেখানে এককালীন চেক প্রাপ্তির পর অসহায় মানুষের চোখে-মুখে আশার আলো প্রতিফলিত হতে দেখা যায়।
অসহায় মানুষের বাড়িয়ে দেওয়া হাতে যখন রাষ্ট্র সস্নেহে আশার আলো তুলে দেয় তখন তা কেবল একটি চেক থাকে না বরং তা হয়ে ওঠে এক সমৃদ্ধ আগামীর সেতুবন্ধন। নেতৃত্বের দূরদর্শিতা আর জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা যখন একবিন্দুতে মিলে যায় তখন প্রতিটি নাগরিক তার হৃত আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় এবং দেশ এগিয়ে যায় এক স্থিতিশীল ভবিষ্যতের দিকে। আমরা এমন এক সময়ের প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি প্রান্তিক মানুষ হবে স্বাবলম্বী এবং সামাজিক নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে প্রতিটি অভাবী ঘর। অন্ধকারের সকল অনিশ্চয়তা ও অভাব মুছে গিয়ে সুশাসনের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি জনপদ এবং প্রতিটি মানুষ খুঁজে পাক তার অর্জিত অধিকার ও নিরাপদ যাপন। সাহসের সাথে এই জনকল্যাণমুখী পথেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক সুখী ও বৈষম্যহীন স্বপ্নের বাংলাদেশ।