লালাখালে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স: ২ লক্ষ টাকার অবৈধ ইঞ্জিন নৌকা জব্দ ও ধ্বংস
সিলেটের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখালে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এক কঠোর ও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত লালাখালের দুর্গম এলাকায় পরিচালিত এই বিশেষ মোবাইল কোর্টে অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বড় ইঞ্জিনচালিত ভারি নৌকা জব্দ করা হয়। পরে স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে নৌকা দুটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ধ্বংসকৃত এই নৌকা ও ইঞ্জিনগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য কমপক্ষে ২ লক্ষ টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
অভিযান চলাকালে স্রোতের তীব্র প্রতিকূলতা এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান উপেক্ষা করে প্রশাসনের সদস্যরা লক্ষ্যস্থলে পৌঁছান। তবে দূর থেকে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বেশ কিছু অবৈধ নৌকার চালক ও এর সাথে জড়িত ব্যক্তিরা দ্রুত বনের আড়ালে সটকে পড়ে। ফলে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব না হলেও অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার মূল সরঞ্জামগুলো অকেজো করে দেওয়ার মাধ্যমে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান যে, লালাখালের শান্ত ও স্বচ্ছ নীল জলরাশিকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও যাতায়াত করে আসছিল, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছিল।
অভিযান শেষে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা গণমাধ্যমকে জানান যে, লালাখালের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং সরকারি নির্দেশ অমান্য করে যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “আজ আমরা সফলভাবে দুটি বড় ইঞ্জিন নৌকা ধ্বংস করেছি। অনেকে পালিয়ে গেলেও আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।” তিনি স্থানীয়দের আইন মেনে চলার এবং পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হওয়ার জোরালো আহ্বান জানান। জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান নিয়মিত বিরতিতে চলবে এবং অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
প্রকৃতির অনাবিল দান যখন মানুষের লোভের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে, তখন প্রশাসনের এই কঠোর রূপই হয়ে ওঠে পরিবেশের শেষ রক্ষাকবচ। নীল জলের মায়া আর পাহাড়ের সজীবতা যখন বিপন্ন হয় তখন সেখানে কেবল আইনি ব্যবস্থা নয় বরং জনসচেতনতার প্রাচীর গড়ে তোলাও অপরিহার্য। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র হবে কলুষমুক্ত এবং প্রতিটি উন্নয়ন হবে পরিবেশবান্ধব। অন্ধকারের সকল অবৈধ বালু উত্তোলন আর পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব মুছে গিয়ে সুন্দরের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি বন ও নদী এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার সুস্থ ও নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা। সাহসের সাথে এই পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে অংশ নিয়েই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক ভারসাম্যপূর্ণ ও সুন্দর বাংলাদেশ।