ক্রীড়াবিদদের ভাগ্যোন্নয়নে সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ: ৩০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর হাতে ১২৯ জনের সম্মাননা
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই দূরদর্শী স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে যাচ্ছে সরকার। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী জাতীয় ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনা, ক্রীড়া কার্ড প্রদান এবং বিশেষ সম্মাননা ও সংবর্ধনার এক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। আগামী সোমবার (৩০ মার্চ) প্রাথমিক পর্যায়ে ১২৯ জন কৃতি ক্রীড়াবিদ সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে এই বিশেষ সম্মাননা ও সংবর্ধনা গ্রহণ করবেন। শনিবার (২৮ মার্চ) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক সরকারের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে ঘোষিত খেলাধুলার উন্নয়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান যে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত পারফরম্যান্স যাচাই-বাছাই শেষে এই ১২৯ জন খেলোয়াড়কে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন এশিয়া আর্চারিতে স্বর্ণজয়ী কম্পাউন্ড দল, ফুটসাল নারী দলসহ বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, সুইমিং, কাবাডি এবং প্যারা-অ্যাথলেটিকসের মতো বৈচিত্র্যময় ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়রা। আরও আশার কথা হলো, আগামী ১ এপ্রিল থেকে মোট ৫০০ জন জাতীয় ক্রীড়াবিদকে নিয়মিত মাসিক বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে। তবে এই সুবিধা ধরে রাখতে খেলোয়াড়দের প্রতি চার মাস অন্তর পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সম্মুখীন হতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আরও একগুচ্ছ আশার বাণী শুনিয়ে জানান যে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় খেলাধুলাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি উপজেলায় ডেডিকেটেড ‘ক্রীড়া অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যারা সরাসরি স্কুল পর্যায়ের প্রতিভার তদারকি করবেন। এছাড়া এপ্রিলের শেষ দিকে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের জন্য ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠ সংকট দূরীকরণ এবং খেলাধুলাকে একটি সম্মানজনক পেশায় রূপান্তর করতেই ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বর্তমানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারের এই সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কেটে যাবে এবং পেশাদারিত্বের এক নতুন আবহ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মাঠের ঘাম যখন ভাতার নিশ্চয়তা পায় এবং গলার পদক যখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে ফিরে আসে, তখন একজন অ্যাথলেটের সামর্থ্য বহুগুণ বেড়ে যায়। খেলাধুলা কেবল বিনোদন নয় বরং এটি যে একটি সমৃদ্ধ জীবিকা হতে পারে, সেই আত্মবিশ্বাস আজ প্রতিটি তরুণ খেলোয়াড়ের হৃদয়ে গেঁথে যাচ্ছে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি উপজেলায় খেলার মাঠ হবে মুখরিত এবং বাংলাদেশের পতাকাবাহী ক্রীড়াবিদরা বিশ্বমঞ্চে বুক ফুলিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবেন। অন্ধকারের সকল অবহেলা আর অনিশ্চয়তা মুছে গিয়ে ক্রীড়া সংস্কৃতির আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি জনপদ এবং প্রতিটি খেলোয়াড় ফিরে পাক তার যোগ্য সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদা। সাহসের সাথে এই পেশাদারিত্বের পথে হেঁটেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক ক্রীড়াপ্রেমী ও সুস্থ-সবল আধুনিক বাংলাদেশ।