তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৫ জনের মৃত্যু: টিআইবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৩৬ দিনে সারাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তাদের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০২৫ সালে ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় মোট ১০২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে টিআইবি জানায়, থানা থেকে লুট হওয়া এক হাজার ৩৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়া এবং নতুন করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ সহিংসতার ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
গবেষণায় বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, প্রার্থীদের ওপর হামলা এবং সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের মতো বেশ কিছু ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর ৫০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া গণপিটুনি বা মব জাস্টিসের মাধ্যমে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রেও আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে সংস্থাটি। টিআইবি জানায়, ঢালাওভাবে মামলা, বিনা বিচারে আটক এবং সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের হত্যা মামলায় আসামি করার মতো ঘটনা ঘটছে। রিমান্ড ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পুরনো ধারা বহাল রাখা এবং জামিনযোগ্য মামলায় দীর্ঘসূত্রতার বিষয়গুলোও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
টিআইবি আরও জানায়, কারা হেফাজত ও সেনাবাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু, গ্রেপ্তার বাণিজ্য এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। সংস্থাটির মতে, মব তৈরি করে বলপূর্বক দাবি আদায়ের প্রবণতা এবং সরকারের নিষ্ক্রিয়তা দেশে অতি ক্ষমতায়নের নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।