সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ ও নির্দোষ দাবি
সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মামলা ও জামিন বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। বর্তমানে এই অভিযোগগুলো যাচাই বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শুক্রবার জানা যায় সাবেক এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ বিচারক পদায়নে অনিয়ম এবং বিদেশে অর্থ পাচারসহ এক ডজনেরও বেশি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে যে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। দুদকের মহাপরিচালক মো মো আক্তার হোসেন জানান যে কোনো অভিযোগ এলে তা নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড ইফতেখারুজ্জামান এই বিষয়ে মত দেন যে আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে যে কাউকেই জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ড আসিফ নজরুল তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন যে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে বা তার আগে পরে তিনি কখনো কোনো ধরনের দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন না এবং অবৈধভাবে এক টাকাও উপার্জন করেননি। তার বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে দায়িত্ব থাকাকালীন তিনি কোনো আত্মীয় স্বজনকে বিশেষ সুবিধা দেননি এবং তার সব সম্পদের তথ্য আয়কর বিবরণীতে যথাযথভাবে উল্লেখ করা আছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে অভিযোগগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থায় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং সত্য উদঘাটন অত্যন্ত জরুরি। আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসুক এটাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ির ঊর্ধ্বে উঠে সত্যের জয় হলে সমাজের নৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হবে।