ব্যাংক স্থাপনার ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ: নতুন নির্দেশনা জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রশাসনিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অঞ্চলভেদে ব্যাংক শাখা এবং ব্যবসা কেন্দ্রের স্থাপনা ভাড়ার সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে নির্ধারিত এই সীমার মধ্যে ভাড়া থাকলে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে চুক্তি সম্পাদন করতে পারবে। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত সার্কুলার দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ভবনের মালিক যদি ব্যাংকের কোনো পরিচালক বা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হন, তবে ভাড়ার পরিমাণ যাই হোক না কেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক। এছাড়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অফিস স্থানান্তর, প্রধান কার্যালয় বা নিয়ন্ত্রণাধীন বিভাগের জন্য স্থাপনা ভাড়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অগ্রিম অর্থ প্রদান ও স্থাপনা নির্মাণ ব্যয়ের ক্ষেত্রে আগের নিয়মগুলো বহাল রাখা হয়েছে।
অঞ্চলভিত্তিক নির্ধারিত ভাড়ার হারে দেখা গেছে, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রতি বর্গফুটের সর্বোচ্চ ভাড়া ১০৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম এলাকায় ৬১ টাকা, সিলেট এলাকায় ৪০ টাকা এবং বরিশাল এলাকায় ৪৮ টাকা সর্বোচ্চ সীমা ধার্য করা হয়েছে। খুলনা ও রাজশাহীতে সর্বোচ্চ ভাড়া ৩৪ টাকা এবং রংপুরে ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এই হার প্রতি বর্গফুটে সর্বোচ্চ ৩৬ টাকা। শহর এলাকার বাইরে 'ক' শ্রেণির পৌরসভা এবং পল্লী অঞ্চলের জন্য আলাদা ও অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ার হার নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয় হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সাধারণ মানুষের আমানত নিয়ে পরিচালিত ব্যাংকগুলোর প্রতিটি খরচ যেন যৌক্তিক ও স্বচ্ছ হয়, সেটিই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য। একটি শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে এমন তদারকি দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রতি জনমানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।