সংসদের চলতি অধিবেশনে রেকর্ড সংখ্যক বিল পাশ: জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে বিশেষ আইন প্রণয়ন
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে আজ এক ঐতিহাসিক দিন অতিবাহিত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) ১৩তম দিনের অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল' এবং 'শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল' সহ মোট ২৪টি বিল পাশ করা হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আজকের এই অধিবেশনে এ পর্যন্ত চলতি অধিবেশনে পাশ হওয়া মোট বিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১টিতে যা সংসদীয় কার্যক্রমে এক বিশেষ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
অধিবেশন চলাকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত পৃথক পাঁচটি বিল পাশের প্রস্তাব করেন যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এছাড়া সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সংশোধন বিল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল উত্থাপন করলে মাদারীপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমানের তিনটি সংশোধনীসহ বিলটি স্থিরকৃত আকারে পাশ হয়। পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিলসহ দুটি বিল এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আমানত সুরক্ষা, গ্রামীণ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধন বিলসহ আটটি বিল পাশের প্রস্তাব করেন। বিশেষ করে ব্যাংক রেজল্যুশন বিল পাশের সময় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব উঠলেও কণ্ঠভোটে তা নাকচ হয়ে বিলটি পাশ হয়।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিলসহ বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত আইন সংশোধন বিল এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সাইবার সুরক্ষা ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল পাশের প্রস্তাব দিলে সংসদ তা গ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত মানবিক বিলটি উত্থাপন করলে তা আবেগঘন পরিবেশে পাশ হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ সংশোধন বিল পাশের প্রস্তাব করলে সেগুলো কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। উল্লেখ্য যে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সিংহভাগই প্রয়োজনীয় যাচাই বাছাই শেষে স্থায়ী আইনে পরিণত করার সুপারিশ করেছে বিশেষ সংসদীয় কমিটি।
রাষ্ট্রের আইনি কাঠামো যখন গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা আর ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মূল্যবোধকে ধারণ করে তখন তা গণতন্ত্রের ভীতকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও বীরত্বগাঁথা যখন জাতীয় সংসদে আইনের স্বীকৃতি পায় তখন তা শহীদ ও যোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের প্রকৃত কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি আইন হবে জনকল্যাণমুখী এবং সংসদ হবে সকল জাতীয় সংকটের সুষ্ঠু সমাধানের প্রাণকেন্দ্র। অন্ধকারের সকল অগণতান্ত্রিক অধ্যাদেশ ও অনিয়ম মুছে গিয়ে সুশাসনের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি প্রশাসনিক কাঠামো এবং প্রতিটি নাগরিক ফিরে পাক তার কাঙ্ক্ষিত সেবা ও আইনি নিরাপত্তা। সাহসের সাথে এই সংস্কার যাত্রায় অংশ নিয়েই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ আধুনিক বাংলাদেশ।