জৈন্তাপুরে অবৈধ পাথর ক্রাশিংয়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় অবৈধভাবে পাহাড় ও টিলা কেটে সংগ্রহ করা পাথর মজুদ এবং ক্রাশিংয়ের মাধ্যমে পরিবেশ বিপন্ন করার দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার কদমখাল ও ৪নং বাংলা বাজার এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি সৃষ্টির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে দুটি ক্রাশার মিলকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নেয় জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লাসহ পুলিশের একটি চৌকস দল। তদারকিকালে দেখা যায় যে কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই নিষিদ্ধ লাল পাথর ও টিলার পাথর ক্রাশিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। এর ফলে আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। জনস্বার্থ বিবেচনায় তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধী প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন যে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবৈধ পাথর উত্তোলন ও ক্রাশিংয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে পাহাড় বা টিলা কেটে প্রকৃতি ধ্বংসকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং আগামীতে অন্যান্য অবৈধ মিলেও পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হবে। প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপ স্থানীয় সচেতন মহলের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
প্রকৃতি যখন মানুষের লালসার শিকার হয় তখন কেবল পাহাড় ধসে না বরং একটি অঞ্চলের বাস্তুসংস্থান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য যে নির্মল বাতাস আর সবুজ ছায়া প্রয়োজন তা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। পাহাড় কাটার এই ধ্বংসাত্মক প্রতিযোগিতা বন্ধ না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। আমরা আশা করি আইনের কঠোর প্রয়োগ আর নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে জৈন্তাপুরের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা পাবে। মাটির মায়ায় গড়া এই জনপদ যেন আবারও সবুজে শ্যামলে ভরে ওঠে এবং প্রতিটি প্রাণ নিরাপদ থাকে এটিই আজ আমাদের পরম প্রত্যাশা। ধ্বংসের হাত থেকে আমাদের প্রকৃতিকে রক্ষা করার মাধ্যমেই কেবল একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।