পদত্যাগ ও ছুটির গুজব নাকচ করলেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর
নিজের ছুটি ও পদত্যাগ নিয়ে ছড়ানো গুজব সরাসরি নাকচ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, “আমি কোনো ছুটির দরখাস্ত দিইনি, ছুটি মঞ্জুর হয়নি, ছুটির কোনো ইচ্ছাও নেই। আমি প্রতিদিন রাত ১০টার আগে বাসায় যেতে পারি না। ছুটি নেওয়ার সময় কোথায়?”
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর অভিযোগ করেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে একটি ঈর্ষান্বিত মহল পরিকল্পিতভাবে গুজব ও উসকানি ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক চর্চায় বিশ্বাস করি। প্রতিবাদের অধিকার সবার আছে। তবে কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করতে চাই, আমরা গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করতে পেরেছি।”
তিনি দাবি করেন, গত এক বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়েছে, তা গত ১৪–১৫ বছরেও হয়নি। অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক হস্তক্ষেপ কমানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যাংকের শাখা অনুমোদন, ভাড়া বা স্কয়ার ফিটের মতো বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল কাজ নয়; বরং ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট, ক্যাপিটাল ও ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট উন্নয়নই তাদের প্রধান দায়িত্ব।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মুনাফা প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, সরকার একা সব বোঝা বহন করতে পারে না। বিশ্বজুড়েই ‘বার্ডেন শেয়ারিং’ একটি প্রচলিত পদ্ধতি। তিনি জানান, কিছু আমানতকারী গত দুই বছরে ৪ শতাংশ মুনাফা পেলেও আগের বছরগুলোতে তারা ১২–১৩ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পেয়েছেন এবং সামনের দিনগুলোতে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ করে মুনাফা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের অর্থ দিয়ে এই ব্যাংককে অস্বাভাবিকভাবে সহায়তা করেছে, যা তার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। এ জন্য আমানতকারীদের সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
চট্টগ্রাম অঞ্চলের কিছু শাখায় বিশৃঙ্খলা ও ভিডিও ধারণ করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অভিযোগ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, বিষয়টি নজরে রয়েছে এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হবে।
ইসলামী ব্যাংকিংয়ে মুনাফা বিতরণ সংক্রান্ত আউফি (AAOIFI) স্ট্যান্ডার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি নতুন কোনো মানদণ্ড নির্ধারণের বিষয় নয়, বরং একটি চলমান ব্যাংকের সমস্যা সমাধানের বাস্তব উদ্যোগ।
শেষে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গভর্নর বলেন, “নিজেরা ব্যাংকে গিয়ে দেখুন, শুনুন, বুঝুন। অন্যের কথায় বিশ্বাস করবেন না। সাবেক পাঁচ ব্যাংক এখন সরকার মালিকানাধীন ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে। সবাই আস্থা রাখুন—কারও টাকার তছরুপ হবে না।”